ICT

দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে | BCS Study

মাসুম ইবনে আব্দুন নূর

বর্তমানে চাকরির বাজার মানেই ইংরেজির জয় জয়কার। আর এই ইংরেজীতে দুর্বল হওয়া মানেই হাতের শুন্যস্থান দিয়ে চাকরিটা চলে যাওয়া। প্রতিনিয়ত চলছে নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার, কিভাবে ইংরেজিটাকে ভালো করে শিখা যায়। শুধু আমাদের দেশে নয়,সকল উন্নয়নশীল দেশ গুলোতেই একই অবস্থা। বিশ্বায়নে ঠিকে থাকতে হলে, ইংরেজি ভাষা শিখতেই হবে। তবে আমার মনে হয় পৃথিবীর একটা মাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে ইংরেজী ভাষা শিক্ষা দেওয়ার আগে গ্রামার শিক্ষা দেওয়া হয়। ফলে গ্রামারের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা চুরমার হয়ে যায় , কিন্তু ইংরেজী ভাষা আর শিখা হয় না অথচ ভাষার জন্ম হইছে আগে , গ্রামার আসছে পরে ।আপনি যদি এক কোটি গ্রামারটিক্যাল রুল জানুন আর কথা না বলেন, তাহলে এই এক কোটি গ্রামারটিক্যাল রুল না, আরো দুই কোটি জানলেও এই গুলো সব হলো বেকামা মানে অকর্মণ্য জানা। আমরা সবাই ইংরেজীতে কথা বলতে চাই । এমন না যে আমরা ইংরেজী জানি না। আমরা সবাই ইংরেজী জানি কারণ – একটা ছাত্র HSC পর্যন্ত আসতে হলে বাধ্যতামুলক ১৭০০ মার্কের ইংরেজি পড়তে হয়। কিন্তু তারপরেও যদি কেউ বলে যে সে ইংরেজি পারে না, তাহলে এটা এক ধরনের মিথ্যা কথা হবে। তাহলে আমাদের সমস্যা কোথায়?? সমস্যা হলো আমাদের ঘর, সমাজ, চারপাশ আর আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি। আপনি যদি ভারতের বেঙ্গালুরে যান তাহলে দেখতে পারবেন সেখানে একটা রিক্সাওয়ালা পর্যন্তও ইংরেজি তে কথা বলতে পারে? কারণ কি?? কারণ হচ্ছে তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি। তাদের দৃষ্টি তে ইংরেজি একটি ভাষা। তারা সেটা একটা ভাষা হিসেবেই নিয়েছে। তাই যে কেউ কথা বললে সেটা তারা সহজ ভাবেই নেয়। কেউ বলে না যে ইংরেজির পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করতে আসছস বা তুই ইংরেজি পারস এই জন্য আমাদেরকে কে জানান দেস, যেমন ভাবে আমাদের দেশে কেউ ইংরেজি তে কথা বললে তাকে তার আশেপাশের মানুষেরা একদম হেনস্থা করে দেয়। অনেক মানুষ গ্র‍্যাজুয়েশন, পোষ্ট গ্র‍্যাজুয়েশন করার পরেও দেখা গেলো যে একটানা ১ দেড় ঘন্টার বেশী শুদ্ধ ইংলিশে কথা বলতে পারে না। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে ইংরেজী কি গ্র‍্যাজুয়েশনের মাপকাঠি?? না ইংরেজি গ্র‍্যাজুয়েশনের মাপকাঠি না। কিন্তু আমাদের চারপাশ সেটাকে মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেছে। তাই এটাকে ছাড়া এখন গাছতলা থেকে ৩০ তলা পর্যন্ত প্রায় সব কিছুই অচল। তাহলে আমাদের সমস্যাটা কোথায়?? ভার্সিটি শুরুর দিক থেকেই অল্প অল্প এই ইংরেজি শিক্ষতার সাথে জড়িত ছিলাম। আমার ক্ষুদ্র শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও গবেষণায় আমি চারটা প্রধান কারণ বের করতে পেরেছি। এই চারটা কারণকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো।
……
#প্রথম_কারণ:- Counterfeit Starting:- লেখাটার শুরুতেই এই বিষয়টা তুলে ধরলাম। আমাদের ইংরেজি শিক্ষা শুরুর পদ্ধতিটাই গলদ। ক্লাসে টিচার শুরুই করে গ্রামার দিয়ে, ভাষা দিয়ে নয়। তাই ছোট বেলা থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে এইরকম একটা মন মানষিকতা তৈরী করে দেয়া হয় যে ইংরেজি ভাষা মানেই গ্রামার। যার কারণে দেখা যায় ইংরেজি গ্রামার শিখতে শিখতে শিক্ষার্থীরা চুরমার হয়ে যায় কিন্তু ইংরেজি ভাষা আর শেখা হয় না। অথচ পৃথিবীতে ভাষা আসছিলো আগে, গ্রামার আসছিলো পরে ভাষা কে, অনুসরণ করার জন্য। কিন্তু আমরা তার উলটাটা করি। ছোট বেলায় দেখতাম একটা জিনিস (এখন আছে কি না জানি না এই গুলো) এমনকি ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরেও দেখেছি, আমাদের সমাজের কতিপয় শিক্ষিত মানুষ রাস্তাঘাটে, হাটে বাজারে কিংবা অন্য যেকোন স্থানে, হঠাৎ করে এসে বলতো ” বলতো রোগী আসিবার পুর্বে ডাক্তার মারা গেলো, কিংবা মুরগী আসার আগে শিয়াল পালিয়ে গেলো ” এই গুলো কোন Tense??? এই সমস্ত লোকদের দৃষ্টি কেউ যদি এই গুলোর উত্তর দিয়ে দিতে পারে তাহলে সেই ছাত্রটা ইংরেজীতে ভালো। কিন্তু এই লোকটাকে যদি বলেন আপনি ৫ প্রকার sentence এর Definition, Formation, Translation সহ at a stretch পাচ মিনিট ইংরেজিতে লেকচার দেন। দেখবেন এই পাচ মিনিটে কমসে কম উনার ৫ গ্লাস পানি খেতে হবে। কারণ কি? কারণ হচ্ছে উনার জ্ঞান ঐ Tense আর কয়েকটা মুখস্থ Translation পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এর বাইরে আর নাই। কিন্তু উনি যে ক্ষতিটা করলেন সেটা হলো ঐ যে ছাত্রটাকে জিজ্ঞেস করলেন, মুরগী আসার আগেই শিয়াল পালিয়ে গেলো এটা কোন Tense, আর By chance স্টুডেন্ট টা যদি উত্তর দিতে না পারলো, তখন সে মনে মনে ধরে নেয় যে ইংরেজি এতো কঠিন, আমার দ্বারা মনে হয় শেখা সম্ভব না। তার পুরো মনোবলটা এখানেই ভেঙ্গে দেয়া হয়। এটাই হলো শুরুর সমস্যা।

#দ্বিতীয়_সমস্যা: Mental vacillation – মানসিক দ্বিধা দ্বন্দ:- মনের মধ্যে সব সময় একটা দ্বিধাজনক অবস্থা, একটা ফোভিয়া কাজ করা, যে আমি ইংরেজি তে কথা বলবো, কিংবা ইংরেজিতে লিখবো যদি ভুল হয় মানুষে আমাকে নিয়ে হাসবে। উপহাস করবে, মকিং করবে ইত্যাদি ইত্যাদি… এই সমস্যা দূর করার জন্য আমি বলবো আপনার দৃষ্টি ভঙ্গিটা এভাবে একটু পরিবর্তন করুন। ভাবুন যে, যার সাথে আমি কথা বলবো তার তিন অবস্থা হতে পারে। হয় সে আমার থেকে বেশী জানে, না হয় আমার সমান জানে, না হয় আমার থেকে কম জানে। যদি তিনি আমার থেকে বেশী জানেন তাহলে আমি যদি ভুল করি উনি আমাকে শুধরে দেবেন। এটা আমার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট কারণ মানুষ তো ভুল থেকেই শিখে – Learning through mistake. আর যদি সে আমার সমান জানে তাহলে তো সে আমার ভুল ধরতেই পারবে না। আবার হাসবে কিভাবে। কারণ আমি যতটুকু জানি সেও ততটুকু জানে। আমার ভুল হলে এই ভুলটাই তার কাছে ঠিক মনে হবে। তাই ভয় পাওয়ার কি আছে?? আর যে আপনার চেয়ে কম জানে সে তো আপনার কোন ভুল ধরারই সাহস পাবে না হাসাহাসি তো দূরের কথা। এরপরেও একদল আছে আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করবে, টিজ করবে, বলবে যে আপনি ইংরেজির পাণ্ডিত্য দেখান মানুষ কে জানান যে আপনি ইংরেজী জানেন, তা মানুষের কাছে শো অফ করতেছেন, , আপনাকে নিয়ে মজা নিবে, ফান করবে, গসিপ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি…… এদের চিন্তা বাদ দেন। কারণ মনে রাখবেন পৃথিবীতে সব মানুষ তিন ধরনের মৌলিক কণিকা দিয়ে সৃষ্টি যথা Electron, Proton আর Neutron, ঐ যে ব্যাক বাইটাররা অদের শরীরে আরেক ধরণের বিশেষ কনিকা এক্সট্রা আছে যেটার নাম Moron. তাই এরা জন্মগত নির্বোধ। অন্যের সমালচোনায় অরা ব্যাস্ত থাকতে ভালোবাসে। অরা এই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যাবস্থার ভাইরাস, ডুবার মধ্যে আবদ্ধ কচুরিপানার মতো থেমে গেছে, তাই আপনার কোন উন্নতি অগ্রগতি ওদের পছন্দ হয় না। আপনাকেও ওরা কোন না কোনভাবে থামিয়ে দিতে চায়। সুতরাং এদের কথায় কান দিয়ে থেমে যাবেন না। আপনি থেমে গেলেই ওরা সফল, সফলতার দিকে আপনার যাত্রা ওদের রাতের ঘুম নষ্ট হওয়ার ঔষধ। ওদের কথায় কান দিবেন না। ওদের প্রতি কোন Antipathyও দেখাবেন না, কোন Sympathyও দেখাবেন না। ওদের প্রতি শুধু এক শব্দ ব্যবহার করুন জাস্ট Ignore. ওদের কে যত Ignore করবেন আপনি তত নিরাপদ। এটা শুধু ইংরেজী শিখার ক্ষেত্রে নয়, জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে একই নিয়ম । মনে রাখবেন জীবনের সফলতার পথটা অনেক কাদা যুক্ত, আপনি কাদায় হাটবেন আর যদি ভাবেন যে পায়ে কাদা লাগবে না – সেটা তো হতে পারে না। এই চিন্তা করলে তো আপনি সময় মতো গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারবেন না। সুতরাং নির্বোধেরা কি বললো না বললো সেদিকে না থাকিয়ে আপনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান।

#তৃতীয়_কারণ:- Poor Lexis – শব্দভান্ডার অত্যন্ত দুর্বল: আসলে আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ভোকাবুলারি অত্যন্ত দুর্বল। দেখা গেলো ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য কিছু শব্দার্থ শিখা হয়। এরপর পরে ভার্সিটি তে উঠার পর নিজের মেজর সাব্জেক্টের চাপে অনান্য পড়াশুনার করার সুযোগ হয় না, প্রায় ভুলে যায়। ভোকাবুলারি তো অনেক দুরের কথা। কিন্তু আপনাকে সুযোগ করে নিতে হবে। কারণ ভাষা আসবে তো শব্দের মাধ্যমে। এখন আমি শব্দই জানলাম না ভালো করে, তাহলে আমি নিজেকে প্রকাশ করবো কিভাবে। আর রাইটিংস এর ক্ষেত্রে ভোকাবুলারি একটা পাওয়ার টনিকের মতো কাজ করে। কেউ যদি একটা ট্রান্সলেশন কিংবা প্যারাগ্রাফ Casual word দিয়ে লিখে আর আরেকজনে সেইম জিনিসটা একটু High frequency Word দিয়ে করে তাহলে মধ্যে মার্কের ব্যবধান কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ভেরি করবে। আর কম্পিটিটিভ এক্সামে দুই থেকে তিন মার্কের পার্থক্য বিশাল কিছু। যেমন ধরুন একটা বাক্য কেউ কোন একজন লিখলো – Political crisis is the main obstacle to the
economic growth of a country, সেইম বাক্যটা অন্য একজনে লিখলো ” Political turmoil is the chief impediment to the economic aggrandizement of a country– তাহলে দেখুন একই অর্থ কিন্তু এরপরেও আপনি ধরে নিন প্রথমটা তে যদি কেউ ২ পায় দ্বিতীয়টাতে সে পাবে ৪। তাই শব্দ ভান্ডার বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। আপনি ১০০ টা গ্রামারটিক্যাল নিয়ম জানেন কিন্তু একটা শব্দও জানেন না, আপনি এক মিনিটও কথা বলতে পারবেন না। কিন্তু আপনি ১০০ টা শব্দ জানেন কিন্তু একটাও গ্রামারটিক্যাল রুল জানেন না, আপনি কমপক্ষে ৫ মিনিট হলেও কথা বলতে পারবেন। তাই আবারো বলছি শব্দ ভান্ডার ভাড়ানোর কোন বিকল্প নাই।

#চতুর্থ_কারণ:- Not that much sincere to learn English- ইংরেজী শেখার প্রতি ততটা আন্তরিক না। আসলে আমরা সবাই বলি আমি ইংরেজি শিখতে চাই, আমি ইংরেজি শিখতে চাই….. কিন্তু এই বলাটা আমাদের ঠোট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আসলে মন থেকে আমরা আন্তরিক না। যার কারণে আমরা মানুষের কাছে শুধু সাজেশনই চেয়ে বেড়াই, কিন্তু সেই মোতাবেক কাজ আর করি না। কিন্তু আমরা যে সময়টা মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়ে বেড়াই এই সময়টা যদি টেবিলে বসে পড়াশুনা করতাম। তাহলে আমার মনে আমাদের অনেকেই ইংরেজী শিখে এর উপর একটা বই পর্যন্ত লিখে ফেলতে পারতো, কিন্তু আমরা সে কাজ টা করি না। তবে মনে রাখতে হবে শিখতে হলে আন্তরিক হতে হবে, বিষয়টাকে ভালবাসতে হবে। কারণ ভালবাসা আর আন্তরিকতা সেটা যেকোন বিষয়ের প্রতিই হোক না কেন, সেটাকে অর্জন সহজ করে দেয় । আর এই ভালোবাসা আর আন্তরিকতা আসবে চারটা P এর মাধ্যমে I believe that. আর সে গুলো হলো
Passion – তীব্র আবেগ/ চাওয়া।
Patience – ধৈর্য্য।
Practice – অনুশীলন।
Prayer – দোয়া।
এই চারটা জিনিসের কম্বিনেশন যার মধ্যে আছে, পৃথিবীর যেকোন জিনিসেই সে অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে অনুশীলনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিতা বিশাল একটা ফ্যাক্টর। প্রতিদিন ১০ মিনিট অনুশীলন করা, সপ্তাহে একদিন ১০ ঘন্টা প্র‍্যাক্টিস করার চেয়েও কার্যকরী। যদি একা একা পড়তে ভালো না লাগে, তাহলে ফ্রেন্ডদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করেন, যদি সেখানেও ভালো না লাগে, তাহলে পারলে কোন কোচিং গিয়ে ইংরেজী শিখেন (বি:দ্র:- আমি ইংরেজী শিখার জন্য কোন কোচিং এ কখনো যাই নাই তবে অনেক কোচিং এর বই কিনে পড়েছি ব্যক্তিগত ভাবে) । তারপরেও বসে থাকবেন না। যারা বাসায় একা একা পড়েন আমি তাদের ইংরেজী শিখার জন্য নিচে ছোট একটা রুটিন দিলাম। এটা অনুসরণ করুন বেশী না শুধু একমাস মাস। এর পর পার্থক্যটা নিজেই বুঝুন। প্রতিদিন যেভাবে ইংরেজীর প্রস্তুতি সমৃদ্ধ করবেন।

১. নতুন ভোকাবুলারি কমপক্ষে ১০ টা ।
২. Idioms and Phrase ১০ টা।
৩. Appropriate preposition ১০ টা।
৪. Group verb কমপক্ষে ১০ টা।
৫. Sentence making structure ৫ টা।
৬. Translation কমপক্ষে ২ টা।
৭. Grammatical Rule কমপক্ষে ৫ টা।
এক থেকে দেড় ঘন্টার বেশী লাগবে না। তবে Consistency ম্যানটেইন করা খুব জরুরী। Per idem দেখবেন আপনি খুব Adroit হয়ে যাচ্ছেন ।

ইনশাআল্লাহ জব হবেই হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কামিয়াব করুন।

পুনরায় দেখতে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন

image_pdfDownload Pdfimage_printPrint Article
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker