এয়ার হোস্টেস হিসেবে ক্যারিয়ার

আপনি যদি জীবন কে উপভোগ করতে ও অ্যাডভেঞ্চার স্বাদ নিতে পছন্দ করেন তাহলে এয়ার হোস্টেস হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। কাজের সুবাদে দেশ বিদেশে নানা জায়গায় ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে এয়ার হোস্টেসদের। পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো যায় আকাশে। জীবনকে উপভোগের সুযোগ থাকায় এ পেশা সত্যিই রোমাঞ্চকর। এখানে রয়েছে গ্লোবাল ক্যারিয়ার। আপনি এ কাজের যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে গোটা পৃথিবী হবে আপনার কর্মক্ষেত্র। আমাদের দেশে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোতে নতুন বিমান সংযুক্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ পেশায় কাজের সুযোগও বাড়ছে।

বিমান যাত্রার সময় যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করেন একজন এয়ার হোস্টেস। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল ও ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজটিও করে থাকেন তারা। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধুমাত্র মেয়েদের পেশা।  কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও এ পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ পেশায় ছেলেদের ‘স্ট্যুয়ার্ড’ (stewards) বলা হয়।

কাজের ধরণ

মূলত যাত্রীদের দেখাশোনা করা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান করাই হচ্ছে এয়ার হোস্টেসের কাজ। এছাড়াও বিমানে ওঠা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো, টিকিট মিলিয়ে নেয়া, যাত্রীদের সিট দেখিয়ে দেয়া, প্রয়োজনে যাত্রীর সুটকেস সিটে পৌঁছে দিতে সাহায্য করা, যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করা, প্লেনের ফাস্ট এইড ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, ইমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত রয়েছে কিনা এবং বিমানের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা যথাযথ রয়েছে কিনা সব বিষয়ে দেখাশোনা করতে হয়।

আবার সব যাত্রীরা বসার পর উড়োজাহাজের মূল দরজা বন্ধ করা, কীভাবে সিটব্যাল্ট বাঁধতে হবে এবং কোনো জরুরী পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কী করতে হবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া, কোনো যাত্রী যদি অসুস্থ থাকেন, তখন তার প্রতি বাড়তি লক্ষ রাখতে হয়। বিমান কতো মিটার উঁচুতে উড্ডয়ন করবে, বিমান কোথায় গিয়ে থামবে, কখন নামবে, কখন উড্ডয়ন করবে, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে ইত্যাদি সব তথ্য যাত্রীদের জানানোর দায়িত্ব হলো একজন এয়ার হোস্টেসের।

যোগ্যতা ও দক্ষতা

এয়ার হোস্টেস পদে আবেদনের জন্য এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। অনভিজ্ঞ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক এয়ারলাইন্স অবিবাহিতদেরই নিয়োগ দিতে চায়। অবশ্য অভিজ্ঞদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়। বয়সটাও এ পেশায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে। সেইসাথে লাগবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট।

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ বিমান ও বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইন্স পত্রিকা, বিভিন্ন জব সাইট এবং তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। এয়ার হোস্টেস পদে আবেদন করতে চাইলে, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও পত্রিকায় নিয়মিত চোখ রাখতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কোনো সময় লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষা নিয়ে থাকে আবার কখনো শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

এ পেশায় সফল হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আরো কিছু বাড়তি যোগ্যতাও থাকতে হবে। এ পেশায় আসতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। থাকতে হবে ইংরেজি শুনে বুঝতে পারা ও সাবলীলভাবে বলার দক্ষতা। এছাড়াও স্মার্ট, উদ্যমী, দলগত কাজে পারদর্শী, যোগাযোগ দক্ষতা, দীর্ঘ সময় কাজ করার মন মানসিকতা, যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব, রুচিশীল, সুন্দর বাচন ভঙ্গি, ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা থাকতে হবে।

এয়ার হোস্টেস পদে প্রার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু শারীরিক যোগ্যতাকে ও প্রাধান্য দেয়া হয়। এ সকল বিষয়ে প্রত্যেক এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কিছু শর্ত থাকে। যেমন: ছেলেদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, মেয়েদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট, উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ওজন ঠিক থাকতে হবে, সাঁতার জানতে হবে, গায়ের অনাবৃত স্থানে কোনো ট্যাটু বা দাগ থাকা যাবে না প্রভৃতি। এ সংক্রান্ত যাবতীয় শর্তাবলী চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা থাকে।

প্রশিক্ষণ

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে এয়ার হোস্টেস প্রিপারেশন কোর্স করে নিলে এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আপনার জন্য সুবিধা হবে। আমাদের দেশে কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এই পেশায়।

ইউনাইটেড কলেজ অব অ্যাভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোনটিক্যাল ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ, ইউনাইটেড কলেজ অব অ্যাভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যারোনটিক্যাল ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি, অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট, অ্যাভিয়েশন বাংলাদেশ লিমিটেড ইত্যাদি যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তিন মাস মেয়াদি কোর্স করে নিতে পারেন। কোর্সের ফি ১৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

আয় রোজগার

এয়ার হোস্টেসদের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা নেই, কর্ম ঘণ্টা নির্ভর করে বিমান উড্ডয়নের ওপর। প্রত্যেক সপ্তাহে গড়ে ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। আর মাসে সর্বোচ্চ ১২০ ঘণ্টা ফ্লাই করার সুযোগ থাকে। ডমেস্টিক- এয়ারলাইন্সে এয়ার হোস্টেস পদে মাসিক আয় ৩৩,০০০ থেকে ৬৫,০০০ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সে এয়ার হোস্টেস পদে মাসিক আয় ৬০,০০০ থেকে ৬৫,০০০ টাকা।

এছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন যেমন, অন্য দেশে গেলে থাকা খাওয়ার খরচ ও ফ্লাই আওয়ারের ভিত্তিতে ভাতা দেয়া হয়। আরো রয়েছে, আবাসন খরচ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মেডিকেল ভাতাসহ অনেক ধরণের সুযোগ সুবিধা।

ধন্যবাদেঃ youthcarnival

image_pdfDownload Pdfimage_printPrint Article
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker