মর্তবাসী

কাকা বলেন , সময় হলে           সবাই চ ‘ লে           যায় কোথা সেই স্বর্গ – পারে । বল্‌ তো কাকী           সত্যি তা কি                    একেবারে ? তিনি বলেন , যাবার আগে                    তন্দ্রা লাগে           ঘণ্টা কখন ওঠে বাজি , দ্বারের পাশে            তখন আসে                    ঘাটের মাঝি । বাবা গেছেন এমনি করে                    কখন ভোরে           তখন

Read More »

ঝড়

ঝড়ঝঞ্ঝা নিয়ে আছি আমরা সবাই চিরদিন;কত ঘর প্রায় প্রতি বছর যায় যে উড়ে আরমাঝে-মাঝে জলোচ্ছ্বাস বসতি নিশ্চিহ্ন করে, মনেঅগণিত নরনারী, শিশু। পশুপাখি, গাছপালাধ্বংসের গহ্বরে যায়, এমনকি তৃণমূল মাটিছেড়ে শূন্যে ধায় এলোমেলো, অনন্তর মুষলেরবৃষ্টি হয়ে ঝরে অবিরত কত শত নিকেতনে।চাই না এমন ঝড়, স্বৈরাচারের মাতন আর। বরং আসুক সেই ঝড়, যার মত্ততায় পাকাফসলের ক্ষেত নয়, কলরবময়

Read More »

মুর্খু

নেই বা হলেম যেমন তোমার           অম্বিকে গোঁসাই । আমি তো , মা , চাই নে হতে           পণ্ডিতমশাই । নাই যদি হই ভালো ছেলে , কেবল যদি বেড়াই খেলে তুঁতের ডালে খুঁজে বেড়াই           গুটিপোকার গুটি , মুর্খু হয়ে রইব তবে ? আমার তাতে কীই বা হবে , মুর্খু যারা তাদেরই তো           সমস্তখন ছুটি ।   তারাই তো

Read More »

তবে কি বৃথাই আমি

তবে কি বৃথাই আমি তোমার ইঙ্গিতে দিগ্ধিদিকঘুরেছি ধারালো শীতে, দুঃসহ গরমে এতকাল?হায় কী বিভ্রমে ম’জে দিনরাত্রি এক মজা খালসেচে সেচে দুহাতে তুলেছি কাদা নদী ভেবে ঠিক।চতুর্দিকে কৌতূহলী লোকজন ‘ধিক, তোকে ধিক’বলে উৎপীড়ক চোখ রাখে আমার ওপর, গালদিয়ে কেউ কেউ গদ্যে করে আমাকে নাকাল।যত পারে ওরা গাত্র ঝাল তুমুল মিটিয়ে নিক। আমার বলার কিছু নেই, নিঃসঙ্গ

Read More »

ভারি মজা

এই নেয়েছ, ভাত খেয়েছ, ঘন্টাখানেক হবে-আবার কেন হঠাৎ হেন নামলে এখন টবে?একলা ঘরে ফুর্তি ভরে লুকিয়ে দুপুরবেলা,স্নানের ছলে ঠান্ডা জলে জল ছপ্‌ছপ্ খেলা।জল ছিটিয়ে, টব পিটিয়ে, ভাবছ, ‘আমোদ ভারি-কেউ কাছে নাই, যা খুশি তাই করতে এখন পারি।’চুপ্ চুপ্ চুপ্- ঐ দুপ্ দুপ্! ঐ জেগেছে মাসি,আসছে ধেয়ে, শুনতে পেয়ে দুষ্ট মেয়ের হাসি।

Read More »

রবিবার

সোম মঙ্গল বুধ এরা সব           আসে তাড়াতাড়ি , এদের ঘরে আছে বুঝি           মস্ত হাওয়া – গাড়ি ? রবিবার সে কেন , মা গো ,            এমন দেরি করে ? ধীরে ধীরে পৌঁছয় সে           সকল বারের পরে । আকাশ – পারে তার বাড়িটি           দূর কি সবার চেয়ে ? সে বুঝি মা তোমার মতো           গরিব – ঘরের

Read More »

তাচ্ছিল্য উজিয়ে

‘এখানে এসে কি ভুল করলাম?’ এই প্রশ্ন তাকেচঞ্চুতে স্থাপন করে। উস্‌কো খুস্‌কো চুল, গালে দাড়িকামানোর কাটা দাগ, শার্টের কলারে এক টুকরোঘাস, যেন স্তম্ভিত টিকটিকির জিভ।এখানে আসার আগে ছিলেন নির্জন মাঠে শুয়ে। মেঠো ঘ্রাণঘিরে আছে তাকে, বুঝি উদ্ভিদের প্রাণ তার মাঝেসঞ্চারিত; কেউ তাকে আড় চোখে দ্যাখে, কেউ কেউউপেক্ষার ডগায় নাচিয়ে কিছুক্ষণ ভিন্ন দিকেনজর ফেলায়, তিনি তাচ্ছিল্য

Read More »

রৌদ্রের গান

এখানে সূর্য ছড়ায় অকৃপণদুহাতে তীব্র সোনার মতন মদ,যে সোনার মদ পান ক’রে ধন ক্ষেতদিকে দিকে তার গড়ে তোলে জনপদ। ভারতী! তোমার লাবণ্য দেহ ঢাকেরৌদ্র তোমায় পরায় সোনার হার,সূর্য তোমার শুকায় সবুজ চুলপ্রেয়সী, তোমার কত না অহংকার। সারাটা বছর সূর্য এখানে বাঁধারোদে ঝলসায় মৌন পাহাড় কোনো,অবাধ রোদ্রে তীব্র দহন ভরারৌদ্রে জ্বলুক তোমার আমার মনও। বিদেশকে আজ

Read More »

ভালরে ভাল

দাদা গো! দেখছি ভেবে অনেক দূরএই দুনিয়ার সকল ভাল,আসল ভাল নকল ভাল,সস্তা ভাল দামীও ভাল,তুমিও ভাল আমিও ভাল,হেথায় গানের ছন্দ ভাল,হেথায় ফুলের গন্ধ ভাল,মেঘ-মাখানো আকাশ ভাল,ঢেউ- জাগানো বাতাস ভাল,গ্রীষ্ম ভাল বর্ষা ভাল,ময়লা ভাল ফরসা ভাল,পোলাও ভাল কোর্মা ভাল,মাছপটোলের দোলমা ভাল,কাঁচাও ভাল পাকাও ভাল,সোজাও ভাল বাঁকাও ভাল,কাঁসিও ভাল ঢাকও ভাল,টিকিও ভাল টাক্ও ভাল,ঠেলার গাড়ী ঠেলতে ভাল,খাস্তা

Read More »

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি তাহ’লে অনন্তকাল একাপৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিবো সবুজ ঘাস ফুটে উঠেদেখিবো হলুদ ঘাস ঝরে যায় দেখিবো আকাশ শাদা হয়ে উঠে ভোরে-ছেঁড়া মুনিয়ার মত রাঙা রক্ত—রেখা লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায়—বারবার নক্ষত্রের দেখা পাবো আমি; দেখিবো অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস খুলে ফেলে চলে যায়মুখে তার নাই আহা গোধূলির নরম

Read More »

আশ্বিন মাস

সু-শ্যামাঙ্গ বঙ্গ এবে মহাব্রতে রত। এসেছেন ফিরে উমা, বৎসরের পরে, মহিষমৰ্দ্দিনীরূপে ভকতের ঘরে; বামে কমকায়া রমা, দক্ষিণে আয়ত-লোচনা বচনেশ্বরী, স্বর্ণবীণা করে; শিখীপৃষ্ঠে শিখীধ্বজ, যাঁর শরে হততারক—অসুরশ্রেষ্ঠ; গণ-দল যত, তার পতি গণদেব, রাঙা কলেবরে করি-শিরঃ; —আদিব্রহ্ম বেদের বচনে । এক পদ্মে শতদল৷ শত রূপবতী— নক্ষত্রমণ্ডলী যেন একত্রে গগনে!— কি আনন্দ! পূৰ্ব্ব কথা কেন কয়ে, স্মৃতি, আনিছ

Read More »

রাজমিস্ত্রী

বয়স আমার হবে তিরিশ ,           দেখতে আমায় ছোটো , আমি নই মা , তোমার শিরিশ ,           আমি হচ্ছি নোটো । আমি যে রোজ সকাল হলে যাই শহরের দিকে চলে           তমিজ মিঞার গোরুর গাড়ি চড়ে । সকাল থেকে সারা দুপর ইঁট সাজিয়ে ইঁটের উপর           খেয়ালমতো দেয়াল তুলি গড়ে । ভাবছ তুমি নিয়ে ঢেলা ঘর – গড়া

Read More »

তুমি

কিয়দ্দূরে ইঁদারার কাছে দেখি একটি তরুণীপেয়ারা গাছের পাতা ছোঁয় মমতায়,তার শরীরের চমকিতমুদ্রায় তোমার উপস্থিতি ভেবে কাছে যাই; ভুল ভেঙে যায়। একটি মেয়েকে দেখি রেস্তোরাঁয় বসে আছে একা;কফির পেয়ালা শূন্য, দু’টি হাত টেবিলে স্থাপিত।তাকে তুমি ভেবে প্রায় বলে ফেলি, ‘ভীষণ লজ্জিত, কতক্ষণবসে আছো?’ নিজের বিভ্রমে লজ্জা পাই। একদিন মফস্বলী ইস্টিশানে কুয়াশার রাতেওয়েটিং রুমে তুমি বসে আছো

Read More »

দেওয়ালী

তোর সেই ইংরেজীতে দেওয়ালীর শুভেচ্ছা কামনাপেয়েছি, তবুও আমি নিরুৎসাহে আজ অন্যমনা,আমার নেইকো সুখ, দীপান্বিতা লাগে নিরুৎসব,রক্তের কুয়াশা চোখে, স্বপ্নে দেখি শব আর শব।এখানে শুয়েই আমি কানে শুনি আর্তনাদ খালি,মুমূর্ষু কলকাতা কাঁদে, কাঁদে ঢাকা, কাঁদে নোয়াখালী,সভ্যতাকে পিষে ফেলে সাম্রাজ্য ছড়ায় বর্বরতঃএমন দুঃসহ দিনে ব্যর্থ লাগে শুভেচ্ছার কথা;তবু তোর রঙচঙে সুমধুর চিঠির জবাবেকিছু আজ বলা চাই, নইলে

Read More »

মূর্খ মাছি

মাকড়সা               সান্‌-বাঁধা মোর আঙিনাতে               জাল বুনেছি কালকে রাতে,               ঝুল ঝেড়ে সব সাফ করেছি বাসা।               আয় না মাছি আমার ঘরে,               আরাম পাবি বসলে পরে,               ফরাশ পাতা দেখবি কেমন খাসা! মাছি               থাক্‌ থাক্‌ থাক্‌ আর বলে না,               আন্‌কথাতে মন গলে না-               ব্যবসা তোমার সবার আছে জানা।               ঢুক্‌লে তোমার জালের ঘেরে               কেউ কোনদিন আর কি ফেরে?               বাপ্‌রে! সেথায়

Read More »