নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় । মিছিলের সব হাত                কণ্ঠ                পা এক নয় ।সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসারকেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার । শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসেঅবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যেঅস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায়  মোহরের প্রিয় প্রলোভনে

Read More »

নিরাশ্রয় পাঁচটি আঙুল

নিরাশ্রয় পাঁচটি আঙুল তুমি নির্দ্বিধায়অলংকার করে নাও, এ আঙুল ছলনা জানে না ।একবার তোমার নোলক, দুল, হাতে চুড়িকটিদেশে বিছা করে অলংকৃত হতে দিলেবুঝবে হেলেন, এ আঙুল সহজে বাজে না । একদিন একটি বেহালা নিজেকে বাজাবে বলেআমার আঙুল এসে দেখেছিলোতার বিষাদের চেয়ে বিশাল বিস্তৃতি,আমি তাকে চলে যেতে বলিনি তবুওফিরে গিয়েছিলো সেই বেহালা সলাজে । অসহায় একটি

Read More »

দুঃসময়ে আমার যৌবন

মানব জন্মের নামে হবে কলঙ্ক হবেএরকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা  হবোআমার যৌবন দিয়ে এমন দুর্দিনে আজশুধু যদি নারীকে সাজাই । রচনাকাল – ১৪/০২/১৯৭১ ইংবই – যে জলে আগুন জ্বলে

Read More »

অস্ত্র সমর্পণ

মারণাস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার ।নয় মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে, কেবল তোমাকে ।বিরোধী নিধন শেষে কতোদিন অকারণেতাঁবুর ভেতরে ঢুকে দেখেছি তোমাকে, বারবার কতোবার । মনে আছে, আমার জ্বালার বুকতোমার কঠিন বুকে লাগাতেই গর্জে উঠে তুমিবিস্ফোরণে প্রকম্পিত করতে আকাশ, আমাদের ভালোবাসামুহূর্তেই লুফে নিতো অত্যাচারী শত্রুর নিঃশ্বাস । মনে পড়ে, তোমার কঠিন নলে তন্দ্রাতুর কপালেরমধ্যভাগ

Read More »

অগ্ন্যুৎসব

ছিল তা এক অগ্ন্যুৎসব, সেদিন আমিসবটুকু বুক রেখেছিলাম স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রেজীবন বাজি ধরেছিলাম প্রেমের নামেরক্ত ঋণে স্বদেশ হলো,তোমার দিকে চোখ ছিলো নাজন্মভূমি সেদিন তোমার সতীন ছিলো । আজকে আবার জীবন আমার ভিন্ন স্বপ্নে অংকুরিত অগ্ন্যুৎসবেতোমাকে চায় শুধুই তোমায় । রঙিন শাড়ির হলুদ পাড়ে ঋতুর প্লাবন নষ্ট করেভর দুপুরে শুধুই কেন হাত বেঁধেছো বুক ঢেকেছোযুঁই চামেলী বেলীর

Read More »

বেদনা বোনের মতো

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলামশুধু আমাকেই দেখা যায়,আলোর প্রতিফলন প্রতিসরণের নিয়ম না জানা আমিসেই থেকে আর কোনোদিন আয়না দেখি না । জননীর জৈবসারে বর্ধিত বৃক্ষের নিচেকাঁদতাম যখন দাঁড়িয়েসজল শৈশবে, বড়ো সাধ হতোআমিও কবর হয়ে যাই,বহুদিন হলো আমি সে রকম কবর দেখি নাকবরে স্পর্ধিত সেই একই বৃক্ষ আমাকে দেখে না । কারুকার্যময় চারু ঘরের নমুনা দিয়েএকদিন

Read More »

ইচ্ছে ছিলো

ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবোইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করেশান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো । ইচ্ছে ছিলো সুনিপুণ মেকআপ-ম্যানের মতোসূর্যালোকে কেবল সাজাবো, তিমিরের সারাবেলাপৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো । ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলেরাখবো তোমার দুই লাজুক চঞ্চুতে,জন্মাবধি আমার শীতল চোখতাপ নেবে তোমার দু’চোখে । ইচ্ছে

Read More »

প্রতিমা

প্রেমের প্রতিমা তুমি, প্রণয়ের তীর্থ আমার । বেদনার করুণ কৈশোর থেকে তোমাকে সাজাবো বলেভেঙেছি নিজেকে কী যে তুমুল উল্লাসে অবিরামতুমি তার কিছু কি দেখেছো? একদিন এই পথে নির্লোভ ভ্রমণেমৌলিক নির্মাণ চেয়ে কী ব্যাকুল স্থপতি ছিলাম,কেন কালিমা না ছুঁয়ে শুধু তোমাকে ছুঁলামওসবের কতোটা জেনেছো? শুনেছি সুখেই বেশ আছো । কিছু ভাঙচুর আরতোলপাড় নিয়ে আজ আমিও সচ্ছল,

Read More »

অন্যরকম সংসার

এই তো আবার যুদ্ধে যাবার সময় এলোআবার আমার যুদ্ধে খেলার সময় হলোএবার রানা তোমায় নিয়ে আবার আমি যুদ্ধে যাবোএবার যুদ্ধে জয়ী হলে গোলাপ বাগান তৈরি হবে । হয় তো দু’জন হারিয়ে যাবো ফুরিয়ে যাবোতবুও আমি যুদ্ধে যাবো তবু তোমায় যুদ্ধে নেবোঅন্যরকম সংসারেতে গোলাপ বাগান তৈরি করেহারিয়ে যাবো আমরা দু’জন ফুরিয়ে যাবো । স্বদেশ জুড়ে গোলাপ

Read More »

নিখুঁত স্ট্র্যাটেজি

পতন দিয়েই আমি পতন ফেরাবো বলেমনে পড়ে একদিন জীবনের সবুজ সকালেনদীর উল্টো জলে সাঁতার দিয়েছিলাম । পতন দিয়েই আমি পতন ফেরাবো বলেএকদিন যৌবনের শৈশবেইযৌবনকে বাজি ধরেজীবনের অসাধারণ স্কেচ এঁকেছিলাম । শরীরের শিরা ও ধমনী থেকে লোহিত কণিকা নিয়ে আঁকামারাত্মক উজ্জ্বল রঙের সেই স্কেচেএখনো আমার দেখো কী নিখুঁত নিটোল স্ট্র্যাটেজি । অথচ পাল্টে গেলো কতো কিছু,

Read More »

ফেরীঅলা

কষ্ট নেবে কষ্টহরেক রকম কষ্ট আছেকষ্ট নেবে কষ্ট! লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্টপাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,আলোর মাঝে কালোর কষ্ট‘মালটি-কালার’ কষ্ট আছেকষ্ট নেবে কষ্ট। ঘরের কষ্ট পরের কষ্ট পাখি এবং পাতার কষ্টদাড়ির কষ্টচোখের বুকের নখের কষ্ট,একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছেকষ্ট নেবে কষ্ট। প্রেমের কষ্ট ঘৃণার কষ্ট নদী এবং

Read More »

আমার সকল আয়োজন

আমাকে দুঃখের শ্লোক কে শোনাবে?কে দেখাবে আমাকে দুঃখের চিহ্ন কী এমন,দুঃখ তো আমার সেই জন্ম থেকে জীবনেরএকমাত্র মৌলিক কাহিনী। আমার শৈশব বলে কিছু নেইআমার কৈশোর বলে কিছু নেই,আছে শুধু বিষাদের গহীন বিস্তার।দুঃখ তো আমার হাত–হাতের আঙুল–আঙুলের নখদুঃখের নিখুঁত চিত্র এ কবির আপাদমস্তক। আমার দুঃখ আছে কিন্তু আমি দুখী নই,দুঃখ তো সুখের মতো নীচ নয়, যে

Read More »

দুঃখের আরেক নাম

আমাকে স্পর্শ করো, নিবিড় স্পর্শ করো নারী।অলৌকিক কিছু নয়,নিতান্তই মানবিক যাদুর মালিক তুমিতোমার স্পর্শেই শুধু আমার উদ্ধার।আমাকে উদ্ধার করো পাপ থেকে,পঙ্কিলতা থেকে, নিশ্চিত পতন থেকে। নারী তুমি আমার ভিতরে হও প্রবাহিত দুর্বিনীত নদীর মতন,মিলেমিশে একাকার হয়ে এসো বাঁচিনিদারুণ দুঃসময়ে বড়ো বেশি অসহায় একা পড়ে আছি।তুমুল ফাল্গুন যায়, ডাকে না কোকিল কোনো ডালে,আকস্মিক দু’একটা কুহু কুহু

Read More »

রাখালের বাঁশি

কে আছেন ?দয়া করে আকাশকে একটু বলেন –সে সামান্য উপরে উঠুক,আমি দাঁড়াতে পারছি না । ময়মনসিংহ, ১৯৯০ কাব্য গ্রন্থঃ- কবিতা একাত্তর

Read More »

সুন্দরের গান

হলো না, হলো না।শৈশব হলো না, কৈশোর হলো নানা দিয়ে যৌবন শুরু, কার যেনবিনা দোষে শুরুটা হলো না।হলো না, হলো না।দিবস হলো না, রজনীও নাসংসার হলো না, সন্ন্যাস হলো না, কার যেনএসব হলো না, ওসব আরও না।হলো না, হলো না।সন্দুর হলো না, অসুন্দরও নাজীবন হলো না, জীবনেরও না, কার যেনকিছুই হলো না, কিচ্ছু হলো না।হলো

Read More »