জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ দাশ

  • অনন্ত জীবন যদি পাই আমি

    অনন্ত জীবন যদি পাই আমি তাহ’লে অনন্তকাল একাপৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিবো সবুজ ঘাস ফুটে উঠেদেখিবো হলুদ ঘাস ঝরে যায় দেখিবো আকাশ শাদা হয়ে উঠে ভোরে-ছেঁড়া মুনিয়ার মত রাঙা রক্ত—রেখা লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায়—বারবার নক্ষত্রের দেখা পাবো আমি; দেখিবো অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস খুলে ফেলে চলে যায়মুখে তার নাই আহা গোধূলির নরম আভাস। অনন্ত জীবন যদি পাই…

    Read More »
  • আকাশে চাঁদের আলো

    ১আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজবাতাসে ঘুঘুর ডাক—অশত্থে ঘুঘুর ডাক—হৃদয়ে ঘুঘু যে ডাকে—নরম ঘুঘুর ডাক আজতুমি যে রয়েছ কাছে—ঘাসে যে তোমার ছায়া—তোমার হাতের ছায়া—তোমার শাড়ির ছায়া ঘাসেআকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ ২কেউ যে কোথাও নেই—সকলে গিয়েছে মরে—সকলে গিয়েছে চলে—উঠান রয়েছে শুধু একাশিশুরা কাঁদে না কেউ—রুগিরা হাঁপায় না তো—বুড়োরা কয় না কথা…

    Read More »
  • একদিন যদি আমি

    একদিন যদি আমি কোনো দূর বিদেশের সমুদ্রের জলেফেনার মতন ভাসি শীত রাতে — আসি নাকো তোমাদের মাঝেফিরে আর — লিচুর পাতার ‘পরে বহুদিন সাঁঝেযেই পথে আসা-যাওয়া করিয়াছি, — একদিন নক্ষত্রের তলেকয়েকটা নাটাফল তুলে নিয়ে আনারসী শাড়ির আচঁলেফিঙার মতন তুমি লঘু চোখে চলে যাও জীবনের কাজে,এই শুধু… বেজির পায়ের শব্দ পাতার উপড়ে যদি বাজেসারারাত… ডানার অস্পষ্ট ছায়া বাদুড়ের ক্লান্ত হয়ে চলে…

    Read More »
  • কত দিন ঘাসে আর মাঠে

    কত দিন ঘাসে আর মাঠেআমার উৎসাহে প্রাণ কাটে খড় খুঁটি—অশ্বথ্থের শুকনো পাতা চুপে উল্টাই দু’একটা পোকা যদি পাই আমারে চেনো না নাকি: আমি যে চড়াই। কতদিন তোমাদের ভোরের উঠানে দু’-একটা খই আর মুড়কির ঘ্রাণে উড়ে আসি চুপে দেখি কোনো রূপেচাল ডাল ছোলা ক্ষুদ খুঁজে পাই কিনা ঝুরঝুর ক’রে ফুল ফুরায় সজিনা থুপ্‌ থুপ্‌ থুপ্‌ থুপ্‌—একাকী লাফাই ঘুম নাই—চোখে ক্লান্তি নাই…

    Read More »
  • কতদিন তুমি আর আমি এসে এইখানে বসিয়াছি

    কতদিন তুমি আর আমি এসে এইখানে বসিয়াছি ঘরের ভিতরখড়ের চালের নিচে, অন্ধকারে; — সন্ধ্যার ধূসর সজলমৃদু হাত খেলিতেছে হিজল জামের ডালে — বাদুড় কেবলকরিতেছে আসা-যাওয়া আকাশের মৃদু পথে — ছিন্ন ভিজে খড়বুকে নিয়ে সনকার মতো যেন পড়ে আছে নরম প্রান্তর;বাঁকা চাঁদ চেয়ে আছে — কুয়াশায় গা ভাসায়ে দেয় অবিরলনিঃশব্দ গুবরে পোকা — সাপমাসী — ধানী শ্যামাপোকাদের দল;দিকে দিকে চালধোয়া গন্ধ…

    Read More »
  • কেমন বৃষ্টি ঝরে

    কেমন বৃষ্টি ঝরে—মধুর বৃষ্টি ঝরে—ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে—রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ কেমন সবুজ পাতা—জামীর সবুজ আরও—ঘাস যে হাসির মতো—রোদ যে সোনার মতো ঘাসে সোনার রেখার মতো—সোনার রিঙের মতো—রোদ যে মেঘের কোলে—তোমার গালের টোলে রোদ তোমার চুলে যে রোদ—মেঘের মতন চুলে—তোমার চোখে যে রোদ—সেও যে মেঘের মতো চোখ আকাশে সোনালি চিল পাখনা ছড়ায়ে কাঁদে—(এমন সোনালি চিল)—সোনালি রেণুর মতো ঝরিছে কান্না…

    Read More »
  • গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথা

    গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথাকোনদিন চোখে দেখি নাইএকদিন ভাবিলাম মাঠে মাঠে কুয়াশায়যদি আমি কোনোদিন বিদিশায় যাই— মাঠে মাঠে কুয়াশায় ভাবিলাম এই কথাবহু দিন বহু বহু রাত ধ’রে আমিযদি আমি—কোনোদিন যদি আমিঅবন্তীর পথে গিয়ে নামি— পউষের কুয়াশায় সাপের খোলস, পাতা, ডিমপ’ড়ে আছে ঘাসে,কেন যে করুণ চোখ পথ ভুলে ভেসে গেলময়জানি নদীটির পাশে— এসেছে এ কার বজরা ?চারিদিকে শীত নদী…

    Read More »
  • গুবরে ফড়িং শুধু উড়ে যায় আজ

    গুবরে ফড়িং শুধু উড়ে যায় আজ এই সন্ধ্যার বাতাসে,খড়কুটা ঝড়ে শুধু শাইকের মুখ থেকে চুপে।আবার শালিখা, সেই খড়গুনো কুড়ায় নিশ্চুপে।সন্ধ্যার লাল শিরা মৃদু চোখে ঘরে ফিরে আসেঘুঘুর নরম ডাকে—নীরব আকাশেনক্ষত্রেরা শান্তি পায়—পউষের কুয়াশায় ধূপেপুঁয়ের সবুজ রাঙা লতা আছে ডুবে।এ কোমল স্নিগ্ধ হিম সান্ত্বনার মাসেচোখে তার শান্তি শুধু—লাল লাল ফলে বুক আছে দেখ ভ’রে।গুবরে ফড়িং কই উড়ে যায় আজ এই সন্ধ্যার…

    Read More »
  • ঘরের ভিতরে দীপ জ্বলে ওঠে সন্ধ্যায়

    ঘরের ভিতরে দীপ জ্বলে ওঠে সন্ধ্যায়—ধীরে ধীরে বৃষ্টি ক্ষান্ত হয়ভিজে চালে ডুমুরের পাতা ঝরে—শালিখ বসিয়া থাকে মুহূর্ত সময়জানালার কাছে এসে, ভিজে জানালার কাছেমৌমাছি বহুক্ষণ মৃদু গুমরায়এইসব ভালো লাগে : এইসব ম্লান গন্ধ মৃদু স্বাদ চায়পৃথিবীর পথে ঘুরে আমার হৃদয়ডুমুরের পাতা ঝরে ভিজে চালে—ধীরে ধীরে বৃষ্টি ক্ষান্ত হয়মলিন শাড়ির ঘ্রাণ ধূপ হাতে দুয়ারে দাঁড়ায়। এইসব ভালোবাসি—জীবনের পথে ঘুরেএইসব ভালোবাসে আমার হৃদয়ঘরে…

    Read More »
  • ঘাটশিলা—ঘটশিলা—

    ঘাটশিলা—ঘটশিলা—কলকাতা ছেড়ে বল ঘাটশিলা কে যায় মিছাইচিরদিন কলতাকা থাকি আমি,ঘাটশিলা ছাই। চিঠির উপরে তবু চিঠিকয়েকটা দিনএইখানে এসে তুমি থেকে যাওচিঠিগুনো হয়ে গেল পুরোনো মলিন তবু আমি গেলাম নাযদিও দেখেছি আমি কলকাতা থেকেকত দিন কত রাতঘাটশিলা গিয়েছে অনেকে একদিন তারপর—বহুদিন পরেঅনেক অসাধ অনিচ্ছায়ঘাটশিলা চলিলামঘাটশিলা দেখিলাম হায় আবার এসেছি ফিরে—ধোঁয়ায় ধুলায় ভিড়েফুটপাথে—ট্রামের জগতেপথ থেকে পথে ফিরিপথ থেকে ক্লান্ত পথে পথে। কী হল…

    Read More »
Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker