Table of Contents

রবীন্দ্রনাথ

অনেক সময় পাড়ি দিয়ে আমি অবশেষে কোন এক বলয়িত পথে    মানুষের হৃদয়ের প্রীতির মতন এক বিভাদেখেছি রাত্রির রঙে বিভাসিত হয়ে থেকে আপনার প্রাণের প্রতিভা    বিচ্ছুরিত ক’রে দেয় সঙ্গীতের মত কণ্ঠস্বরে!    হৃদয়ে নিমীল হয়ে অনুধ্যান করেময়দানবের দ্বীপ ভেঙে ফেলে স্বভাবসূর্যের গরিমাকে।    চিন্তার তরঙ্গ তুলে যখন তাহাকে    ডেকে যায় আমাদের রাত্রির উপরে-পঙ্কিল ইঙ্গিত এক ভেসে ওঠে নেপথ্যের অন্ধকারেঃ আরো ভূত                                            আধেক মানব    আধেক শরীর-

Read More »

এই শতাব্দী-সন্ধীতে মৃত্যু

(অগণন সাধারণের) সে এক বিচ্ছিন্ন দিনে আমাদের জন্ম হয়েছিলো        ততোধিক অসুস্থ সময়ে        আমাদের মৃত্যু হয়ে যায়।দূরে কাছ শাদা উঁচু দেয়ালের ছায়া দেখে ভয়েমনে করে গেছি তাকে- ভালোভাবে মনে ক’রে নিলে-        এইখানে জ্ঞান হতে বেদনার সুরু-অথবা জ্ঞানের থেকে ছুটি নিয়ে সান্ত্বনার হিম হ্রদে একাকী লুকালেনির্জন স্ফটিকস্তম্ভ খুলে ফেলে মানুষের অভিভূত ঊরু        ভেঙে যাবে কোনো এক রম্য যোদ্ধা এসে।নরকেও মৃত্যু নেই-

Read More »

কার্ত্তিকের ভোর- ১৩৫০

চারিদিকে ভাঙনের বড় শব্দ,          পৃথিবী ভাঙার কোলাহল;তবুও তাকালে সূর্য পশ্চিমের দিকে          অস্ত গেলে,… চাঁদের ফসল                   পূবের আকাশেহৃদয় বিহীনভাবে আন্তরিকতা ভালবাসে। তেরোশো পঞ্চাশ সালে কার্ত্তিকের ভোর;          সূর্যালোকিত সব স্থানযদিও লঙ্গরখানা,          যদিও শ্মশান,তবুও কল্কির ঘোড়া সরায়ে মেয়েটি তার যুবকের কাছে          সূর্যালোকিত হয়ে আছে।

Read More »

শতাব্দী শেষ

সূর্যগরিমার নিচে মানুষের উচ্ছ্রিত জীবন          শুরু হ’ল- যখন সে শিশুর মতন;নদীর জলের মত আশা দিয়ে উচ্চারিত হয়ে          তবুও সে মানুষের মন। রঙীন খেলনা, ঘোড়া, জাপানী লাটিম,          আরব্যোপন্যাসের সেই পরী জিন উড্ডীন বক                   নিয়ে খেলে বিবেচনা ক’রে হয়ে যায়                             ক্রমেই নিঃস্বার্থ বিবেচক। অপরা বিদ্যার দিন ছাত্রের,          কলেজিয়ানের পুরস্কার,          অধ্যায়নবিলাসীর                   দু চারটে পেপারকাটারপ’ড়ে থেকে তার পর মলিন টেবিল;          বাজেটের কমিটি মিটিঙে;- ভুলের ভিতর

Read More »

সোনালি অগ্নির মতো

সোনালি অগ্নির মতো আকাশ জ্বলছে স্থির নীল পিলসুজে;পৃথিবীর শেষ রৌদ্র খুঁজেকেউ কি পেয়েছে কিছু কোনো দিকে? পায় নি তো কেউ।তারপর বাদুড়ের কালো কালো ঢেউউড়ায়ে শঙ্খচিল কোথায় ডুবল চোখ বুজে।অনেক রক্তাক্ত সোনা লুফে নিয়ে চ’লে গেছে নগরীর পানেমানুষেরা রক্তের সন্ধানে।বাদুড়েরা তারপর ছক কেটে আঁধার আকাশেজীবনের অন্য-এক মানে ভালবাসেঃহয় তো-বা সূর্যের ও-পিঠের মানে। চিন্তার-ইচ্ছার শান্তি চারদিকে নামছে

Read More »

শীতের রাতের কবিতা

গভীর শীতের রাত এই সব,- তবুচারিদিকে যুবাদের হৃদয়ের জীবনের কথামৃত্যুর উপর দিয়ে সাঁকোর মতনচেয়ে দেখে মরণের অপ্রমেয়তাসেতুর ছবির মত মিলে গিয়ে জলের ভিতরেজীবনের জয়-আর মরণের স্তব্ধতাকে অনুভব করে।অনুভব করে এই জীবনই মহৎ,মরণের চেয়ে বড় জীবনের  সুর;যদিও অন্ন আজ ভূমি নয়- তবুও মৈত্রেয়ীঅন্নলোভাতুর;হৃদয়বিহীনভাবে- দশ বিশ শত কোটি টনচলে আজ পঙ্গপাল,- নিজেকে উজাড় করে;- জেনেজীবন হতাশ নয় ব’লেই

Read More »

এই কি সিন্ধুর হাওয়া

এই কি সিন্ধুর হাওয়া? রোদ আলো বনানীর বুকের বাতাস    কোথায় গভীর থেকে আসে!অগণন পাখী উড়ে চ’লে গেলে তবু নীলাকাশ    কথা বলে নিজের বাতাসে। রাঙা মেঘ- আদি সূর্য- স্বাভাবিক সামাজিক ব্যবহার সব    ফুরিয়ে গিয়েছে কত দূরে।সে অনেক মানবীয় কাল ভেঙে এখন বিপ্লব    নতুন মানব-উৎস কোথাও রয়েছে এই সুরে। যাযাবর ইতিহাসসহ পথ চিনে নিতে চায়।    অনেক ফ্যাক্টরি ফোর্ট ব্যাঙ্কারেরো আত্নস্থ মনেরঅমার ভিতরে

Read More »

হেমন্ত কুয়াশায়

সকাল-সন্ধ্যাবেলা আমি সেই নারীকে দেখেছিজেনেছি অনেক দিন- তারপর তবুও ভেবেছি।তারপর ঢের দিন পৃথিবীর সেই শাদা সাধারণ কথাছোট বড় জিনিসের বিস্মরণে ক্রমে ভুলে গেছি।আকাশ আমাকে বলেঃ ‘সে না তুমি আত্মসমাহিতি?’পৃথিবী আমাকে দেখে ভেবে যায়ঃ ‘এর প্রাণে, আহা,লাখেরাজ হয়ে প’ড়ে র’য়েছে সততা;যে নারীকে নদীর কিনারে জলে ভালোবেসেছিলসময়ের সুবাতাস মুখ ছঁইয়ে চ’লে গেলে যদি তার কথাভুরু কোঁচকায়ে ভেবে

Read More »

পৃথিবী ও সময়

সময়ের উপকণ্ঠে রাত্রি প্রায় হয়ে এল আজসূর্যকে পশ্চিমে দেখি সারা শতাব্দীরঅক্লান্ত রক্তের বোঝা গুছায়ে একাকীতবুও আশার মত মেঘে মেঘে বলয়িত হয়েশেষ আলো ঢেলে যায়;- জ্যোতিঃপ্রাণধর্মী সূর্য অই;একদিন অ্যামিবার উৎসরণ এনেছিল;জীবনের ফেনশীর্ষ সিন্ধুর কল্লোল এক দিনমানুষকে পেয়ে;- না-মর্মী মানুষ সেই দিনভয় পেত, গুহায় লুকাত,- তবু সূর্যকরোজ্জ্বলসোনালী মানবী তাকে ‘হাঁ’ বলাল;- নীলআকাশ নগরীরেখা দেখা দিল;- শঙ্খ আমলকীসাগর

Read More »

চেতনা-লিখন

শতাব্দীর এই ধূসর পথে এরা ওরা যে যার প্রতিহারী।আলো অন্ধকারের ক্ষণে যে যার মনে সময়সাগরেরক্লান্তিবিহীন শব্দ শোনে;অথবা তা নাড়ীর রক্তস্রোতের মতন ধ্বনিনা শুনে শোনা যায়। সময় গতির শব্দময়তাকে তবু ধীরে ধীরে যথাস্থানে রেখেট্রামের রোলে আরেক ভোরের সাড়া পেয়ে কেউ বা এখন শিশু,কেউ বা যুবা, নটী, নাগর, দক্ষ-কন্যা, অজের মুণ্ড, অখল                                        পোলিটিশ্যান্‌এদের হাতেই দিনের আলো নিজের সার্থকতাখুঁজে

Read More »

জার্মানীর রাত্রিপথেঃ ১৯৪৫

সে এক দেশ অনেক আগের শিশুলোকের থেকেসাগরগামী নদীর মত স্বরেআমার মনের ঘুঘুমরালহংসী ঝাউয়ের বনেআধো আলোছায়াচ্ছন্ন ভাবে মনে পড়েটিউটনের গল্পে ছড়ায় সাগরে সূর্যালোকেগ্রিমের থেকে…… শিলাত সানুজ দানবীয়গ্যেটের সে দেশ সূর্য অনিকেত?মাঝে মাঝে আমার দেশের শিপ্রা, পদ্মা, রেবা, ঝিলম, জলশ্রীকে আমিসর্পীযোনের মতন কোথাও পাহাড় অবধিঅথবা নীল ভূকল্লোলে সাগর সুভাষিতকরতে গিয়ে শুনেছিলাম রাইনের মত নদীকি এক গভীর হ্বাইমারী

Read More »

মৃত্যু সূর্য সংকল্প

সর্বদাই অন্ধকারে মৃত্যু এক চিন্তার মতন;আমাদের এই শতাব্দীর সাধ, স্বপ্ন, কাজ, প্রাণআচ্ছাদন ক’রে দিতে আসে।ভোরের নিশ্চিন্ত মন কেমন সাহসে অনায়াসেআলো হয়- সূর্য হয়- দেখ;নদী- মেঘ- দিগন্তের পাহাড়ের নীলবিচ্ছুরিত হয়ে ওঠে কেমন নিঃশব্দ অনাবিল।আমরা প্রেমের কথা- জ্ঞান মুক্তি প্রগতির দিনঢের আগে শুরু ক’রে এখনো ব্রহ্মাণ্ড-অন্তর্লীনসুরের ভিতরে সুর-অগ্নি হতে গিয়েবার বার অঙ্গারের অন্ধকারে সমাজ নিভিয়েমানুষের ইতিহাস-ঊর্ণা হয়ে

Read More »

নবপ্রস্থান

শীতের কুয়াশা মাঠে; অন্ধকারে এইখানে আমি।আগত ও অনাগত দিন যেন নক্ষত্রবিশাল শূন্যতারএই দিক- অথবা অপর দিক; দুয়েরি প্রাণেরবিচিত্র বিষয়জ্ঞানে মিলে গেছে- তবুও প্রেমেরঅমর সম্মতিক্রমে। পৃথিবীর যে কোনো মানবদেশ কাল যে কোনো অপর দেশ সময় ও মানুষের তরেসেবা জ্ঞান শৃঙ্খলা অবতার হয়ে সব বাধ্যব্যথাহারানবীন ভূগোললোকে মিশে গেছে;- দিকভ্রান্তিহীনসারসের মত,- নীল আকাশকে ঈষৎ ক্রেংকারেখুলে ফেলে। যা হয়েছে

Read More »

দিনরাত্রি

সমস্ত দিনসমস্ত পৃথিবীই যেন আকাশ।চারদিকে রৌদ্রের ভিতর রয়ে গেছে নির্মল জলের অনুভূতি;জল আকাশ ও আগুনের থেকে এই সব রাত্রির জন্ম হয়;অন্তহীন শুভ্রবিবেকী নক্ষত্রের;এই সব স্থায়ী জিনিস চল-বিশ্বলোকের;মানব্জীবনের; এদের অনবচ্ছিন্ন উজ্জ্বল প্রবাহে ধৌত হয়েসমস্ত গৃহযুদ্ধের গৃহবলিভুকদের রক্তেরশেষ বিন্দুও খুঁজে পাবে না কোথাও।কোথাও থাকবে না আন্তর্জাতিক অন্যায়ের ছায়া আর। দেখা যাবে দিন সূর্যশরীরীঃযাযাবর হাঁসকে নিয়ে চলেছে মেঘেরফেনাওড়ানো

Read More »

আলোক পত্র

হে নদী আকাশ মেঘ পাহাড় বনানী,সৃজনের অন্ধকার অনির্দেশ উৎসের মতনআজ এই পৃথিবীতে মানুষের মনমনে হয়; অধঃপতিত এক প্রাণী। প্রেম তার সব চেয়ে ছায়া, নিরাধারনিঃস্বতায়- অকৃত্রিম আগুনের মতনিজেকে না চিনে আজ রক্তে পরিণতহে আগুন, কবে পাব জ্যোতিঃদীপাধার। মানুষের জ্ঞানালোক সীমাহীন শক্তি পরিধিরভিতরে নিঃসীম;ক্ষমতার লালসায় অহেতুক বস্তুপুঞ্জে হুম;সূর্য নয়- তারা নয়- ধোঁইয়ার শরীর। এ অঙ্গার অগ্নি হোক,

Read More »