Table of Contents

পটভূমি

আকাশ ভ’রে যেন নিখিল বৃক্ষ ছেয়ে তারাজেগে আছে কূলের থেকে কূলে;মানব্জাতির দু-মুহূর্তের সময়-পরিসরঅধীর অবুঝ শিশুর শব্দ তুলেচেয়ে দেখে পারাপারের ব্যাপ্ত নক্ষত্রেরাআগুন নিয়ে বিষম, তবু অক্ষত স্থির জীবনে আলোকিত।ওদের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন হ’য়ে তবুমানুষ যেদিন প্রথম এই পৃথিবী পেয়েছিলসেই সকালের সাগর সূর্য অনমনীয়তাআমাদের আজ এনেছে যেই বিষম ইতিহাসে-যেখানে গ্লানি হিংসা উত্তরাধিকারের ব্যথামানুষ ও তার পটভূমির

Read More »

এই নিদ্রা

আমার জীবনে কোনো ঘুম নাইমৎস্যনারীদের মাঝে সবচেয়ে রূপসী সে নাকিএই নিদ্রা? গায় তার ক্ষান্ত সমুদ্রের ঘ্রাণ- অবসাদ সুখচিন্তার পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন-বিমুখপ্রাণ তার এই দিন এই রাত্রি আসে যায়- বুঝিতে দেয় না তারে; কোনো ধ্বনি ঘ্রাণকোনো ক্ষুধা- কোনো ইচ্ছা- পরীরো সোনার চুল হয় যাতে ম্লানঃআমাদের পৃথিবীর পরীদের;- জানেনা সে; শোনেনা সেজীবনের লক্ষ্য মৃত নিঃশ্বাসের স্বর;তাহলে ঘুমাত

Read More »

পাখি

ঘুমায়ে রয়েছ তুমি ক্লান্ত হ’য়ে, তাইআজ এই জ্যোৎস্নায় কাহারে জানাইআমার এ-বিস্ময়- বিস্ময়ের ঠাঁই,নক্ষত্রের থেকে এলো;- তুমি জেগে নাই, আমার বুকের ‘পরে এই এক পাখি;পাখি? না ফড়িং কীট? পাখি না জোনাকি?বাদামি সোনালী নীল রোম তার রোমে-রোমে রেখেছে সে ঢাকি,এমন শীতের রাতে এসেছে একাকী নিস্তব্ধ ঘাসের থেকে কোন্‌ধানের ছড়ার থেকে কোথায় কখন,রেশমের ডিম থেকে এই শিহরণ!পেয়েছে সে

Read More »

অঘ্রাণ

আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি- বিকেলের এই রঙ- রঙের শূন্যতারোদের নরম রোম- ঢালু মাঠ- বিবর্ণ বাদামি পাখি- হলুদ বিচালিপাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে- কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা, ধানের সোনার কাজ ফুরায়েছে- জীবনেরে জেনেছে সে- কুয়াশায় খালিতাই তার ঘুম পায়- খেত ছেড়ে দিয়ে যাবে এখনি সে- খেতের ভিতরএখনি সে নেই যেন- ঝ’রে পড়ে অঘ্রাণের এই শেষ

Read More »

শীত শেষ

আজ রাতে শেষ হ’য়ে গেল শীত- তারপর কে যে এলো মাঠে-মাঠে খড়েহাঁস গাভী শাদা-প্লেট আকাশের নীল পথে যেন মৃদু মেঘের মতন,ধানের সোনার ছড়া নাই মাঠে- ইঁদুর তবুও আর যাবে নাকো ঘরে তাহার রূপালি রোম একবার জ্যোৎস্নায় সচকিত ক’রে যায় মন,হৃদয়ে আস্বাদ এলো ফড়িঙের- কীটেরও যে- ঘাস থেকে ঘাসে-ঘাসে তাইনির্জন ব্যাঙের মুখে মাকড়ের জালে তারা বরং

Read More »

এই সব

বারবার সেই সব কোলাহল সমারোহ রীতি রক্ত,- ক্লান্তি লাগে যেন;তাহারা অনেক জানে- এই দূর মাঠে আমি খুঁজি নাকো জীবনের মানেশুধু এই মাঠ- রাত- আমারে ডেকেছে, আহা, বলেছি- ‘যাবোনা আর’- কেন কেন যাবো? এই ধুলো গাভী হাঁস জ্যোৎস্না ছেড়ে আমি যাবো কোনখানেসেখানে চিন্তার ব্যথা- ব্যথা না কি? আজ রাতে শুধু আমি শান্তির আকাশচেয়েছি যে- সেই ভালো-

Read More »

মৃত মাংস

ডানা ভেঙে ঘুরে-ঘুরে প’ড়ে গেলো ঘাসের উপর;কে তার ভেঙেছে ডানা জানে না সে ;- আকাশের ঘরেকোনোদিন-কোনোদিন আর তার হবে না প্রবেশ ?জানে না সে; কোনো-এক অন্ধকার হিম নিরুদ্দেশঘনায়ে এসেছে তার ? জানে না সে, আহা,সে যে আর পাখি নয়- রঙ নয়- তাহাজানে না সে; ঈর্ষা নয়- হিংসা নয়- বেদনা নিয়েছে তারে কেড়ে!সাধ নয়- স্বপ্ন নয়-

Read More »

অন্ধকারে জলের কোলাহল

বিকেলবেলা গড়িয়ে গেলে অনেক মেঘের ভিড়কয়েক ফলা দীর্ঘতম সূর্যকিরণ বুকেজাগিয়ে তুলে হলুদ নীল কমলা রঙের আলোয়জ্বলে উঠে ঝরে গেল অন্ধকারের মুখে।যুবারা সব যে যার ঢেউয়ে-মেয়েরা সব যে যার প্রিয়ের সাথেকোথায় আছে জানি না তোঃকোথায় সমাজ, অর্থনীতি?- স্বর্গগামী সিঁড়িভেঙ্গে গিয়ে পায়ের নিচে রক্তনদীর মতোমানব ক্রমপরিণতির পথে লিঙ্গশরীরীহয়ে কি আজ চারি দিকে গণনাহীন ধূসর দেয়ালেছড়িয়ে আছে যে

Read More »

কাউকে ভালোবেসেছিলাম

কাউকে ভালোবেসেছিলাম জানিতবুও ভালোবাসা,দুপুরবেলার সূর্যে ভোরের শিশিরনেমে আসা,ভোরের দিকে হৃদয় ফেরাইযাই চলে যাই-নীল সকালে যাই চলে যাই-একটি নদী একটি অরূণ শিউলি শিশির পাখি-‘আমরা মায়ার মনের জিনিসমায়াবিনীর বেলায় শুধু জাগি’বলছে সে কোন্‌ ত্রিকোণ থেকেছায়ার পরিভাষা।কাউকে ভালোবেসেছিলাম, জানি,তবুও ভালোবাসা।সে কোন্‌ সুদূর মরুর মনে চলে গেছহায়, যাযাবর তুমি,সেইখানে কি মিলবে বনহংসী বাঁধা বাসা! হায় বলিভূক, কখন ভেবেছিলেমাটি ছেড়ে

Read More »

সূর্যকরোজ্জ্বলা

আমরা কিছু চেয়েছিলাম প্রিয়;নক্ষত্র মেঘ আশা আলোর ঘরেঐ পৃথিবীর সূর্যসাগরে দেখেছিলাম ফেনশীর্ষ আলোড়নের পথেমানুষ তাহার ছায়ান্ধকার নিজের জগতেজন্ম নিল- এগিয়ে গেল; – কত আগুন কত তুষার যুগশেষ করে সে আলোর লক্ষ্যে চলার কোন্‌ শেষহবে না আর জেনে নিয়ে নির্মল নির্দেশপেয়ে যাবে গভীর জ্ঞানের, – ভেবেছিলাম,পেয়ে যাবে প্রেমের স্পষ্ট গতিসত্য সূর্যালোকের মতন; – ব’লে গেল মৃতঅন্ধকারে

Read More »

ঊনিশশো চৌত্রিশের

একটা মোটরকারখটকা নিয়ে আসে। মোটরকার সব-সময়েই একটা অন্ধকার জিনিস,যদিও দিনের রৌদ্র-আলোর পথেরাতের সুদীপ্ত গ্যাসের ভিতরআলোর সন্তানদের মধ্যেতার নাম সবচেয়ে প্রথম। একটা অন্ধকার জিনিস :পরিষ্কার ভোরের বেলাদেশের মটরশুঁটি-কড়াইয়ের সবুজ ক্ষেতে-মাঠে হাঁটতে হাঁটতেহঠাৎ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাল সুরকির রাস্তার ভিতর দিয়েহিজলগাছ দুটোর নিচে দিয়েউনিশশো চৌত্রিশের মডেল একটা মোটরকারঝকমক করছে, ঝড় উড়িয়ে ছুটেছে;পথ ঘাট ক্ষেত শিশির সরে যেতে

Read More »

মনমর্মর

আমার মনের ভিতরে ছায়া আলো এসে পড়ে;যেইসব অনুভূতি ঝরে গেছে তাদের কঙ্কাল নদীকে দিয়েছি আমি-বিকেলকে-নক্ষত্রের দাহনে বিশাল আকাশকে; ফিরে আসে নবদিকচিহ্ন নিয়ে মর্মের ভিতরে। সময়ের ঢের উৎস গ্রন্থ ছবি মননের পদ্ধতি সবনিয়ে যায় হৃদয়কে যেন কোন্‌ শেষ অনুশীলনের পানে;অন্তহীন অন্ধকার রয়ে গেছে হয়তো সেখানে:অসীম আলোর মতো তবুও করেছি অনুভব।

Read More »

অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয় করে

অনেক মুহূর্ত আমি করেছি ক্ষয়করে ফেলে বুঝছি সময়যদিও অনন্ত, তবু প্রেম যেন অনন্ত নিয়ে নয়। তবু তোমাকে ভালোবেসেমুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসেবুঝেছি অকূলে জেগে রয়ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয় ।

Read More »

সারা দিন ট্রাম-বাস

সারাদিন ট্রাম-বাস-ফেরিওলাদের ডাক- কুষ্ঠরোগী পথের উপর-হাড়ভাঙা মহিষের গাড়িগুলো-বাজারের রুক্ষ শব্দ-বস্তির চিৎকার।আমার হৃদয়ে যেই শঙ্খমালা কিশোরীটি বাঁধিতে আসিয়াছিল ঘরতাহারে ফিরায়ে দেয় শহরের পথ থেকে পাড়াগাঁর কান্তারের পার- কবে যে কান্তার ছেড়ে আসিয়াছি নির্বাসিত আমি রাজপুত্রের মতন,কোথায় শিমের গন্ধ? শ্যামা পাখি? কিশোর গেল কি মরে বুকের ভেতর?দুপুর ঘনায়ে ওঠে ভিজা মেঘে- চিল কাঁদে-কই বলো?কই হীরামন?-আমার হৃদয়ে যে

Read More »

মকরসংক্রান্তি প্রাণে

তুমি আমার মনে এলে।বালুঘড়ি বিকল রাতের বেলা।থেকে থেকে পড়ছে মনেসে কোন ধূসর বেবিলনেকবের গ্রীসের অলিভবনেতোমার সাথে সূর্যতীরেহয়েছিলো খেলা। জানি সবই ফুরিয়ে গেলে অতল সনাতনেথেকে থেকে তাঁবা নদীর অতল উৎসারণেজলদেবীর মতন জেগে জানিয়ে গেছ তুমিচম্পা কনকবতী এখন সুধার মরুভূমিমরুভূমি-মরীচিকা-মায়ামৃগের খেলা। তবুও আবার সূর্য নিয়ে এলো রজনীআমার-তোমার-আধুনিকেরশতঘ্নী আঘাতজননটের মতন নেচে-কবেকী হারাল-সে কার মনে রবেতোমার-আমার-সে কার অবহেলা।

Read More »