কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম

  • কার বাঁশি বাজিল?

    কার বাঁশি বাজিল     নদীপারে আজি লো?নীপে নীপে শিহরণ কম্পন রাজিল –               কার বাঁশি বাজিল?     বনে বনে দূরে দূরে     ছল করে সুরে সুরে     এত করে ঝুরে ঝুরে               কে আমায় যাচিল?পুলকে এ-তনুমন ঘন ঘন নাচিল।ক্ষণে ক্ষণে আজি লো কার বাঁশি বাজিল?  কার হেন বুক ফাটে মুখ নাহি ফোটে লো!না-কওয়া কী কথা যেন সুরে বেজে ওঠে লো!     মম নারী-হিয়া মাঝে     কেন এত ব্যথা বাজে?    …

    Read More »
  • চাঁদমুকুর

    চাঁদ হেরিতেছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে।ছুটে তরঙ্গ বাসনাভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।হেরিছে রজনি রজনি জাগিয়াচকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়াকুমুদীরে কাঁদাইতে। না জানি সজনি কত সে রজনি কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,হেরেছে শশীরে সরসী-মুকুরে ভীরু ছায়াতরু কাঁপিয়া।কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরনিচির-বিরহিণী রোহিণী ভরণী,অবশ আকাশ বিবশা ধরণিকাঁদানিয়া চাঁদনীতে।    (ছায়ানট কাব্যগ্রন্থ)

    Read More »
  • চির-চেনা

    নামহারা ওই গাঙের পারে বনের কিনারেবেতস-বেণুর বনে কে ওই বাজায় বীণা রে।লতায়-পাতায় সুনীল রাগেসে-সুর সোহাগ-পুলক লাগে,সে সুর ঘুমায় দিগঙ্গনার শয়নলীনা রে।আমি কাঁদি, এ সুর আমার চিরচেনা রে। ফাগুন-মাঠে শিস দিয়ে যায় উদাসী তার সুর,শিউরে ওঠে আমের মুকুল ব্যথায় ভারাতুর।সে সুর কাঁপে উতল হাওয়ায়,কিশলয়ের কচি চাওয়ায়,সে      চায় ইশারায় অস্তাচলের প্রাসাদ-মিনারে।আমি কাঁদি, এই তো আমার চিরচেনা রে।    (ছায়ানট কাব্যগ্রন্থ)

    Read More »
  • চিরন্তনী প্রিয়া

    এসো এসো এসো আমার চির-পুরানো!            বুক জুড়ে আজ বসবে এসো হৃদয়-জুড়ানো!            আমার চির-পুরানো!     পথ বিপথে কতই আমার নিত্য নূতন বাঁধন এসে যাচে,    কাছে এসেই অমনি তারা পুড়ে মরে আমার আগুন আঁচে।          তারা  এসে ভালোবাসার আশায়                একটুকুতেই কেঁদে ভাসায়,                ভীরু তাদের ভালোবাসা কেঁদেই ফুরানো।                বিজয়িনী চিরন্তনী মোর!    একা  তুমিই হাস বিজয়-হাসি দীপ দেখিয়ে পথে ঘুরানো।     তুমি যেদিন মুক্তি দিলে হেসে বাঁধন কাটলে আপন হাতে,                প্রেম-গরবি আপন প্রেমের জোরে,    জানতে আমায় সইবে না কেউ…

    Read More »
  • ছলকুমারী

    কত    ছল করে সে বারে বারে দেখতে আসে আমায়।কত    বিনা-কাজের কাজের ছলে চরণ দুটি                     আমার দোরেই থামায়।               জানলা-আড়ে চিকের পাশে              দাঁড়ায় এসে কীসের আশে,              আমায় দেখেই সলাজ ত্রাসে       অনামিকায় জড়িয়ে আঁচল গাল দুটিকে ঘামায়।        সবাই যখন ঘুমে মগন দুরুদুরু বুকে তখন                     আমায় চুপে চুপে       দেখতে এসেই মল বাজিয়ে দৌড়ে পলায়,                     রং খেলিয়ে চিবুক গালের কূপে!              দোর দিয়ে মোর জলকে চলে              কাঁকন হানে কলস-গলে!              অমনি চোখাচোখি হলে      …

    Read More »
  • দহনমালা

    হায় অভাগি! আমায় দেবে তোমার মোহন মালা?বদল দিয়ে মালা, নেবে আমার দহন-জ্বালা?            কোন ঘরে আজ প্রদীপ জ্বেলে            ঘরছাড়াকে সাধতে এলে            গগনঘন শান্তি মেলে, হায়!দু-হাত পুরে আনলে ও কি সোহাগ-ক্ষীরের থালা            আহা দুখের বরণ ডালা?            পথহারা এই লক্ষ্মীছাড়ারপথের ব্যথা পারবে নিতে? করবে বহন, বালা?  লক্ষ্মীমণি! তোমার দিকে চাইতে আমি নারি,            দু-চোখ আমার নয়ন জলে পুরে,বুক ফেটে যায় তবু এ-হার ছিঁড়তে নাহি পারি,ব্যথাও দিতে নারি, – নারী! তাই যেতে…

    Read More »
  • দুপুর-অভিসার

    যাস   কোথা সই একলা ও তুই অলস বৈশাখে?জল   নিতে যে যাবি ওলো কলস কই কাঁখে?      সাঁঝ ভেবে তুই ভর-দুপুরেই দু-কূল নাচায়ে     পুকুরপানে ঝুমুর ঝুমুর নূপুর বাজায়ে          যাসনে একা হাবা ছুঁড়ি,          অফুট জবা চাঁপা-কুঁড়ি তুই!     দ্যাখ্ রং দেখে তোর লাল গালে যায়          দিগ্‌বধূ ফাগ থাবা থাবা ছুঁড়ি,          পিক-বধূ সব টিটকিরি দেয় বুলবুলি চুমকুড়ি –ওলো  বউল-ব্যাকুল রসাল তরুর সরস ওই শাখে॥     দুপুর বেলায় পুকুর গিয়ে একূল…

    Read More »
  • নিরুদ্দেশের যাত্রী

    নিরুদ্দেশের পথে যেদিন প্রথম আমার যাত্রা হল শুরু।নিবিড় সে-কোন্ বেদনাতে ভয়-আতুর এ বুক কাঁপল দুরু-দুরু।মিটল না ভাই চেনার দেনা, অমনি মু্হুর্মুহুঘরছাড়া ডাক করলে শুরু অথির বিদায়-কুহু                    উহু উহু উহু!     হাতছানি দেয় রাতের শাঙন,     অমনি বাঁধে ধরল ভাঙন –     ফেলিয়ে বিয়ের হাতের কাঙন –খুঁজে বেড়াই কোন আঙনে কাঁকন বাজে গো!     বেরিয়ে দেখি ছুটছে কেঁদে বাদলি হাওয়া হু হু!মাথার ওপর দৌড়ে টাঙন, ঝড়ের…

    Read More »
  • নিশীথ-প্রীতম

    হে মোর প্রিয়,হে মোর   নিশীথ-রাতের গোপন সাথি! মোদের   দুইজনারেই জনম ভরে কাঁদতে হবে গো –   শুধু   এমনি করে সুদূর থেকে, একলা জেগে রাতি।  যখন   ভুবন-ছাওয়া আঁচল পেতে নিশীথ যাবে ঘুম,        আকাশ বাতাস থমথমাবে সব হবে নিঝঝুম,  তখন   দেব দুঁহু দোঁহার চিঠির নাম-সহিতে চুম!   আর   কাঁপবে শুধু গো, মোদের   তরুণ বুকের করুণ কথা আর শিয়রে বাতি।    মোরা   কে যে কত ভালোবাসি কোনোদিনই হবে না তা…

    Read More »
  • নীল পরি

    ওই    সর্ষে ফুলে লুটাল কার            হলুদ-রাঙা উত্তরি।            উত্তরি-বায়    গো –ওই    আকাশ-গাঙে পাল তুলে যায়            নীল সে পরির দূর তরি॥  তার    অবুঝ বীণার সবুজ সুরে            মাঠের নাটে পুলক পুরে,ওই    গহন বনের পথটি ঘুরে       আসছে দূরে কচিপাতা দূত ওরই॥      মাঠঘাট তার উদাস চাওয়ায়            হুতাশ কাঁদে গগন মগন      বেণুর বনে কাঁপচে গো তার              দীঘল শ্বাসের রেশটি সঘন।তার    বেতস-লতায় লুটায় তনু,         দিগ্‌বলয়ে ভুরুর ধনু,সে     পাকা ধানের হীরক-রেণু        নীল নলিনীর নীলিম-অণু             মেখেছে মুখ বুক ভরি॥ (ছায়ানট কাব্যগ্রন্থ)

    Read More »
Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker