হুলিয়া

আমি যখন বাড়িতে পৌঁছলুম তখন দুপুর,আমার চতুর্দিকে চিকচিক করছে রোদ,শোঁ শোঁ করছে হাওয়া।আমার শরীরের ছায়া ঘুরতে ঘুরতে ছায়াহীনএকটি রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে৷কেউ চিনতে পারেনি আমাকে,ট্রেনে সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে একজনের কাছ থেকেআগুন চেয়ে নিয়েছিলুম, একজন মহকুমা স্টেশনে উঠেইআমাকে জাপটে ধরতে চেয়েছিল, একজন পেছন থেকেকাঁধে হাত রেখে চিত্কার করে উঠেছিল;- আমি সবাইকেমানুষের সমিল চেহারার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি৷কেউ

Read More »

‘মানুষ’

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায় । আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,গাছের মতো দাঁড়িয়ে থাকি।সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না ।কী করে তাও বেঁচে থাকছি, ছবি আঁকছি,সকালবেলা, দুপুরবেলা অবাক করেসারাটা দিন বেঁচেই

Read More »

একটি খোলা কবিতা

আসুন আমরা আগুন সম্পর্কে বৃথা বাক্যব্যয় না করে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠিজ্বালিয়ে দিয়ে বলিঃ ‘এই হচ্ছে প্রকৃত আগুন ।মীটসেফ খোলা রেখে, বিড়ালকে উপদেশ দিয়েঅযথা সময় নষ্ট ক’রে লাভ নেই, আসুনআমরা মীটসেফের দরোজাটা বন্ধ করে দেই ।’ পুঁজিবাদী শোষণের পথ খোলা রেখেসম্ভব নয় প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন দেখানো ।ফুঁটো চৌবাচ্চায় জল থাকবার কথা নয়,সে বেরিয়ে যাবেই; ওটাই জলের

Read More »

ওটা কিছু নয়

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই ।এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল ।এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,–না, না, না,-ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীরমাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্নি

Read More »

আক্রোশ

আকাশের তারা ছিঁড়ে ফেলি আক্রোশে,বিরহের মুখে স্বপ্নকে করি জয়ী;পরশমথিত ফেলে আসা দিনগুলিভুলে গেলে এতো দ্রুতো,হে ছলনাময়ী? পোড়াতে পোড়াতে চৌচির চিতা নদীচন্দনবনে আগ্নির মতো জ্বলে,ভূকম্পনের শিখরে তোমার মুখহঠাৎ স্মৃতির পরশনে গেছে গলে । ফিরে গেলে তবু প্রেমাহত পাখি একা,ঝড় কি ছিলো না সেই বিদায়ের রাতে >ভুলে গেলে এতো দ্রুত, হে ছলনাময়ী,পেয়েছিলে তাকে অনেক রাত্রিপাতে । শব্দের

Read More »

অগ্নিতে যার আপত্তি নেই

থামাও কেন? গড়াতে দাও,গড়াক;জড়াতে চায়? জড়াতে দাও,জড়াক । যদি পাকিয়ে ওঠে জট,তৈরি হবে নতুন সংকটসুখ না হলে দুঃখ দিয়েপূর্ণ হবে ঘট । ডরাও কেন? এগোতে দাওজাগুক;সরাও কেন? আগুনে হাতলাগুক । জীবন শেষে মরণ হয়,মরণ শেষে হয় কী?অগ্নিতে যার আপত্তি নেইমাটিতে তার ভয় কী?

Read More »

তোমার চোখ এতো লাল কেন

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক, শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য। বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত। আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না। আমি জানি এই ইলেকট্রিকের

Read More »

তুলনামূলক হাত

তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷ তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে; আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে, তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকে খুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার, সেখানেই

Read More »

যাত্রাভঙ্গ

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে মন বাড়িয়ে ছুঁই, দুইকে আমি এক করি না এক কে করি দুই। হেমের মাঝে শুই না যবে, প্রেমের মাঝে শুই তুই কেমন করে যাবি? পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া আমাকেই তুই পাবি। তবুও তুই বলিস যদি যাই, দেখবি তোর সমুখে পথ নাই। তখন আমি একটু ছোঁব হাত বাড়িয়ে জড়াব তোর বিদায়

Read More »

পূর্ণিমার মধ্যে মৃত্যু

একদিন চাঁদ উঠবে না, সকাল দুপুরগুলো মৃতচিহ্নে স্থির হয়ে রবে; একদিন অন্ধকার সারা বেলা প্রিয় বন্ধু হবে, একদিন সারাদিন সূর্য উঠবে না। একদি চুল কাটতে যাব না সেলুনে একদিন নিদ্রাহীন চোখে পড়বে ধুলো। একদিন কালো চুলগুলো খ’সে যাবে, কিছুতেই গন্ধরাজ ফুল ফুটবে না। একদিন জনসংখ্যা কম হবে এ শহরে, ট্রেনের টিকিট কেটে একটি মানুষ কাশবনে

Read More »

আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি

সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপগতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি। শহিদ মিনার থেকে খসে-পড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল আমাকে বলেছে,আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।সমবেত সকলের মতো আমিও পলাশ ফুল খুব ভালোবাসি,

Read More »

দুঃখ করো না বাঁচো

দুঃখকে স্বীকার করো না, –সর্বনাশ হয়ে যাবে ।দুঃখ করো না, বাঁচো, প্রাণ ভ’রে বাঁচো ।বাঁচার আনন্দে বাঁচো । বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো ।জানি মাঝে-মাঝেই তোমার দিকে হাত বাড়ায় দুঃখ,তার কালো লোমশ হাত প্রায়ই তোমার বুক ভেদ করেচলে যেতে চায়, তা যাক, তোমার বক্ষ যদি দুঃখেরনখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়; যদি গলগল করে রক্ত ঝরে,তবু দুঃখের হাতকে তুমি

Read More »

শুধু তোমার জন্য

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়েগুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েওকতবার যে আমি সে কথা বলিনিসে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্যদরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলামআমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ‘এই ওঠো,আমি, আ…মি…।‘আর অমি এ-কী শুনলামএমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার

Read More »

আবার যখনই দেখা হবে

আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগেইবলে দেব স্ট্রেটকাটঃ ‘ভালোবাসি’।এরকম সত্য-ভাষণে যদি কেঁপে ওঠে,অথবা ঠোঁটের কাছে উচ্চারিত শব্দ থেমে যায়,আমি নখাগ্রে দেখাবো প্রেম, ভালোবাসা, বক্ষ চিরেতোমার প্রতিমা। দেয়ালে টাঙ্গানো কোন প্রথাসিদ্ধদেবীচিত্র নয়, রক্তের ফ্রেমে বাঁধা হৃদয়ের কাচেদেখবে নিজের মুখে ভালোবাসা ছায়া ফেলিয়াছে। এরকম উন্মোচনে যদি তুমি অনুরাগে মুর্ছা যেতে চাওমূর্ছা যাবে, জাগাবো না,নিজের শরীর দিয়ে

Read More »

স্বপ্ন নব-ভৌগোলিক শিখা

এখন আমার বয়স কত হবে? একশ? নব্বই? আশি?হায়রে আমার বেশি-বয়সের স্বপ্ন, আমার একশ হবে না ।আমি ময়মনসিংহের কবি, নীরার একান্ত বাধ্য স্বামী,আমার বয়স পঁয়ত্রিশ, আমি ঢাকায় এসেছি স্বরচিতকবিতা পড়তে । আমার বড় ভাই পশ্চিম বাংলার,আমি স্বদেশের মায়ায় জড়ানো কবি । আয়াতুল্লা খোমিনির মতো আমার মাথার চুলে ব্রহ্মজীবীশুভ্র-কাশদল, ফাল্গুনের হাওয়ায় মাতাল শাল-গজারীরসবুজ পাতার ঝিলিমিলি আমার দু’চোখে

Read More »