ঝড়

ঝড়ঝঞ্ঝা নিয়ে আছি আমরা সবাই চিরদিন;কত ঘর প্রায় প্রতি বছর যায় যে উড়ে আরমাঝে-মাঝে জলোচ্ছ্বাস বসতি নিশ্চিহ্ন করে, মনেঅগণিত নরনারী, শিশু। পশুপাখি, গাছপালাধ্বংসের গহ্বরে যায়, এমনকি তৃণমূল মাটিছেড়ে শূন্যে ধায় এলোমেলো, অনন্তর মুষলেরবৃষ্টি হয়ে ঝরে অবিরত কত শত নিকেতনে।চাই না এমন ঝড়, স্বৈরাচারের মাতন আর। বরং আসুক সেই ঝড়, যার মত্ততায় পাকাফসলের ক্ষেত নয়, কলরবময়

Read More »

তবে কি বৃথাই আমি

তবে কি বৃথাই আমি তোমার ইঙ্গিতে দিগ্ধিদিকঘুরেছি ধারালো শীতে, দুঃসহ গরমে এতকাল?হায় কী বিভ্রমে ম’জে দিনরাত্রি এক মজা খালসেচে সেচে দুহাতে তুলেছি কাদা নদী ভেবে ঠিক।চতুর্দিকে কৌতূহলী লোকজন ‘ধিক, তোকে ধিক’বলে উৎপীড়ক চোখ রাখে আমার ওপর, গালদিয়ে কেউ কেউ গদ্যে করে আমাকে নাকাল।যত পারে ওরা গাত্র ঝাল তুমুল মিটিয়ে নিক। আমার বলার কিছু নেই, নিঃসঙ্গ

Read More »

তাচ্ছিল্য উজিয়ে

‘এখানে এসে কি ভুল করলাম?’ এই প্রশ্ন তাকেচঞ্চুতে স্থাপন করে। উস্‌কো খুস্‌কো চুল, গালে দাড়িকামানোর কাটা দাগ, শার্টের কলারে এক টুকরোঘাস, যেন স্তম্ভিত টিকটিকির জিভ।এখানে আসার আগে ছিলেন নির্জন মাঠে শুয়ে। মেঠো ঘ্রাণঘিরে আছে তাকে, বুঝি উদ্ভিদের প্রাণ তার মাঝেসঞ্চারিত; কেউ তাকে আড় চোখে দ্যাখে, কেউ কেউউপেক্ষার ডগায় নাচিয়ে কিছুক্ষণ ভিন্ন দিকেনজর ফেলায়, তিনি তাচ্ছিল্য

Read More »

তুমি

কিয়দ্দূরে ইঁদারার কাছে দেখি একটি তরুণীপেয়ারা গাছের পাতা ছোঁয় মমতায়,তার শরীরের চমকিতমুদ্রায় তোমার উপস্থিতি ভেবে কাছে যাই; ভুল ভেঙে যায়। একটি মেয়েকে দেখি রেস্তোরাঁয় বসে আছে একা;কফির পেয়ালা শূন্য, দু’টি হাত টেবিলে স্থাপিত।তাকে তুমি ভেবে প্রায় বলে ফেলি, ‘ভীষণ লজ্জিত, কতক্ষণবসে আছো?’ নিজের বিভ্রমে লজ্জা পাই। একদিন মফস্বলী ইস্টিশানে কুয়াশার রাতেওয়েটিং রুমে তুমি বসে আছো

Read More »

তৃতীয় পক্ষ

রক্তচক্ষু রাম বলে রহিমকে, ‘এই দ্যাখ আমার রামদা,তোকে বলি দেবো’রহিম পাকিয়ে চোখ বলে রামকে, ‘বেদ্বীন, এইতলোয়ার দিকে তোকে টুক্‌রো টুক্‌রো করেকুত্তাকে খাওয়াবো’। অনন্তররামদা এবং তলোয়ারে কী ভীষণ ঠোকাঠুকি। একজন প্রশান্ত মানুষ, অস্ত্রহীন, ছুটে এসে দাঁড়লেনদু’জনের মাঝখানে, কণ্ঠে তার অনাবিল মৈত্রীর দোহাই।দু’দিকেই দুই অস্ত্র দ্বিধাহীন হানে তাকে। নির্মল, নির্বাকআসমান দ্যাখে রক্তধারা বয়ে যায় চৌরাস্তায়।    (আকাশ

Read More »

তোমার নাম এক বিপ্লব

আগুনে-পোড়া তরঙ্গের মতো আমার স্বপ্নগুলোকেগোছানোর ব্যগ্রতায় অধিকএলোমেলো করে ফেলি। আমার স্বপ্নগুলোকেযারা পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের আস্তানায়আজ মোচ্ছব। আমি আমার আর্তনাদকেমেঘের দিকে ছুঁড়ে দিয়েআগুন রঙের গুচ্ছ গুচ্ছ কৃষ্ণচূড়ার মধ্যেমুখ লুকাই। এক সম্পাহ ধরে লেখা কয়েকটি কবিতারপাণ্ডুলিপি ছিঁড়ে ফিপ্‌সিহাওয়ায় উড়িয়ে দিই; আমার মুখমণ্ডলেলেগে-থাকা কৃষ্ণচূড়ার ভগ্নাংশসমূহআমাকে কোনো আদিবাসীরআদল দেয়। ক্রোধআমার হৃদয়কে ক্রমাগত পোড়াতে থাকে আরআমি দিগন্তে দেখি তোমার মুখের

Read More »

দোদুল্যমান

সে বসেছিল তার প্রশস্ত বারান্দায়শরীরে যৌবনের গোধূলি নিয়ে। আমি,বার্ধক্যের দোরগোড়া-পেরুনো, তার মুখোমুখিঅন্ধকারের ডানার রেশমি ছায়ায়। একটি ক্লান্ত পাখির ডানা ঝাড়ার শব্দেচিড় ধরে নিস্তব্ধতায়, হঠাৎ এক সময়মনে হলো, সে নেই এই সন্ধ্যাময় বারান্দায়,তার জায়গায় স্থাপিতপ্রসিদ্ধ কোনো ভাস্করের শিল্পিত পাথর।সেই ভাস্কর্য এবং আমার মাঝখানেদুলতে থাকে, ক্রমাগত দুলতে থাকেআমার একটি না-লেখা কবিতা।    (আকাশ আসবে নেমে কাব্যগ্রন্থ)

Read More »

দ্বিতীয় পাখি

আজ থেকে দেখব সকালসন্ধ্যা আমি মেঘেদের,পাখিদের ভেসে-যাওয়া। আবার দেখব ভালো করেকী করে গাছের পাতা, ভোরের শিশির পাতা থেকেঝরে যায়। বাগানের মৃত্তিকার পোকা মাকড়েরাকী ভাবে খুশিতে ঘোরাঘুরি করে চেনা এলাকায়,দেখে নেব। বহুকাল জঙ্গলের মাথায় চাঁদেরমুকুট দেখি নি; ঝিলে মুখ ডুবিয়ে চিত্রল কোনোহরিণের জলপান অদেখা রয়েছে কতকাল। বড় বেশি হৈ চৈ ছিল চতুর্দিকে, ছিল জামা ধরেটানাটানি আর

Read More »

ধোঁয়াশায়

এইমাত্র কবিতার মনোহর বাড়ি থেকে একলা, উদাসবেরিয়ে এলেন তিনি। কিয়দ্দুরে আড়ালে দাঁড়িয়েঘন ঘন ফুঁকছেন সিগারেট; ধোঁয়াঘিরে ধরে তাকে, কাছে ধারেতরুণ কবিরা নেই, কেউ নেই, কোথাও গুঞ্জন নেই কোনো;তিনি একা, আজ বড় একা, দুঃখের কাফনে মোড়া। একদা ছিলেন মিছিলের প্রথম কাতারে, মুখেফুটতো শ্লোগান স্ফূলিঙ্গের মতো, যেননিজেই পতাকা, এরকম উড়তেন জনারণ্যে কী সুন্দর।অধুনা বিবরবাসী, অন্য কাউকেইনয়, নিজেকেই

Read More »

নব্য মানবের স্তব

অন্ধকার ঘোর অন্ধকার উবু হয়ে বসে আছেহতাশার কোলে, ধসে-যাওয়া ঘরবাড়িভাঙাচোরা থামগুলি দুঃস্বপ্নের স্মৃতিনিয়ে অবনত, মধ্যরাতে এমিয়ার কপোতেরাএক সঙ্গে আর্তনাদ করে।য়ূরোপের আত্মাহিম শীত নেমে আসে হা-হা স্বরেএমিয়ার ঘরে ঘরে, খানিক উত্তাপসকলের প্রার্থনার প্রধান প্রস্তাব, মৃত্যু অন্তরালে হাসেবাঁকা হাসি; জানেতরুপের তাস তার হাতেই গচ্ছিত। গ্রন্থপাঠ,সমাজের যাবতীয় রীতিনীতি বেবাক অসার। সর্বনাশগ্রাস করে দশদিক, সর্পাহত অক্ষর সাজায়। ভ্রান্তি পথপ্রদর্শক

Read More »

নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের সৈকতে

আমার ভেতর থেকে আশ্চর্য এক যুবকসামুরাই তরবারির ঝলসানির আঙ্গিকেবেরিয়ে সরাসরি হেঁটে যায়তোমার নিবাসে রাস্তার ভিড় আরকোলাহলের চারদিকে পর্দা টেনে দিয়ে।তুমি তাকে না দেখেতাকাও এক স্তূপ ধূসরতার দিকে;তোমার ভুরুর মাঝখানে দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলক। এই হাত দুটো আমার, দেখ এইএক জোড়া চোখ, এই ওষ্ঠ আমার;শোনো, বুকের এই ধুকপুকুনি আমার-এক স্তূপ ধূসরতাব্যাকুল কণ্ঠস্বর। সেই কণ্ঠস্বর তোমার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে,মনে

Read More »

নাবিক

শাদা পোশাকের লোক, মাথায় সফেদ টুটি, ছিলবন্দরে বন্দরে, আমাদেরপরিচিত, তাসের আড্ডার একজন। মাঝে-মাঝেকী-যে হতো তার, তাস ফেলেজমাট টেবিল ছেড়ে ছুড়ে যেতো চলে,যেন সে শুনেছে গান জলকন্যাদের। নাম তার কখনো হয় নি জানা।কোথায় যে গেলএ নিয়ে আমরা কেউ ঘামাই নি মাথা কোনোদিন। চাঁদের বন্দি সে, শোনা গেল, জ্যোৎস্নার মায়ায় মজেহঠাৎ হারিয়ে গেছে ঘোর সামুদ্রিক কুয়াশায়।অনেক বছর

Read More »

নিজের পায়ের দিকে তাকাতেই

আমাকে কেউ ইশ্বরের প্রতিদ্বন্দী বলেসম্বোধন করল কি করল না তাতে আমারকিছু যায় আসে না। আমার স্তুতি কিংবা নিন্দায়পাড়াপাড়শিরা হুল্লোড়ের হাট বসিয়ে লাঠালাঠি,মাথা ফাটাফাটি করলেও সেদিকে আমারলেশামাত্র নজর নেই। তোমরা কি দ্যাখো নি কী করে নিমেষেবিকল্প সৌরলোক, ভিন্ন চাঁদ, স্বতন্ত্রতারাভরা নিশীথের আকাশ আমি তৈরি করি?তোমাদের চোখে কি পড়ে নি আমার বানানোসেই বাগিচা যা’ আদম ও হাওয়ার

Read More »

নিঝুম বৃষ্টির সুর

সাঁওতাল রমণীর মতো যে অন্ধকারদিগন্তে স্তব্ধ,তা’ এখন শহরের ওপর খুব নীচু হ’য়েঝুঁকে পড়েছে; ওর নিঃশ্বাসঅনুভব করি ত্বকে। থমথমে গুমোট-ছেঁড়াহাওয়ায় ঈষৎ শৈত্য; শহরের চোখের পলকনা পড়তেই বাতাসেরপ্রচণ্ড মাতলামি, নিমেষে হাজার হাজারদরজা জানালা বন্ধ। আকাশ ফুটো করেবৃষ্টি এল অগণিত ঘোড়সওয়ারের মতো আওয়াজে।মেঘের বুকে বিদ্যুৎ-তরবারিরঝলসানি, কানফাটানো বাজের শব্দ! একটানা বৃষ্টির সুর ঝরে শিশুপল্লীর ছাদে,গোশালার টিনে, রাধাচূড়া গাছের পাতায়,নিঝুম

Read More »

নৌকা কাহিনী

কিছুক্ষণের জন্যে, এই ধরো চব্বিশ-ঘণ্টাব্যাপী, একটা জোয়ারএসেছিল। লোকগুলো আনন্দ। টগবগে ছন্দোমায় কোনো কবিতাযেমন মাতিয়ে রাখে সবাইকে, তেমনি। একটি নৌকা,ছিপছিপে, ঔদার্যে অলংকৃত, জলে ভাসতে ভাসতে ওদে,যারা তীরে দাঁড়িয়ে দূরে থেকে দেখছিল খেলাচ্ছলেঢেউয়ে ঢেউয়ে নৌকায় দোলা, বলে, “অনুপম সূর্যোদয়দেখাব তোমাদের। তোমরা ভরাট গলায় জয়ধ্বনি দাও”।নদীতীরে দাঁড়িয়ে-থাকা লোকগুলোর মনের গহনে তখনোসূর্যোদয় দেখার সাধ আড়মোরা ভাঙেনি। নৌকামানুষের নিঃস্পৃহতার ধূসর

Read More »